যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন আর রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তারা দুজনই নর্থ ক্যারোলাইনায় প্রচারণা চালান। প্রচারণার কাজে ফ্লোরিডাও চষে বেড়িয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের পক্ষে তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং হিলারির পক্ষে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মার্কিন নির্বাচনের আর মাত্র ৪ দিন বাকি থাকতে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্নিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প পরস্পরকে নতুন করে আক্রমণ করছে। বিভিন্ন জরিপে দু'জনের মধ্যে ব্যবধান কমে আসায় একে অপরকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দুই প্রার্থী।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নর্থ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্পের চরিত্র নিয়ে কথা বলেন ডেমোক্রেট পার্টির প্রার্থী হিলারি।
নারীদের প্রতি ট্রাম্পের মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি বলেন, ট্রাম্প তার সমগ্র প্রচারণায় ঘৃণ্য কথা বলেন।
আর হিলারির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প বলেন, হিলারির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেএ তাতে সে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার উপযুক্ত নন।
এদিকে, এগিয়ে আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ। প্রধান দুই প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প দুজনেই এখন তাই ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রচারণায়। বৃহস্পতিবার তারা দুজনেই অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনায় সমাবেশ করেন।
এদিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফ্লোরিডা, মায়ামিতে হিলারির হয়ে ভোট চান। আর পেনসিলভেনিয়ায় ট্রাম্পের পক্ষে সমাবেশ করেন মেলানিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইয়ো আর পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্য হচ্ছে অন্যতম ব্যাটেলগ্রাউন্ড। নির্বাচনে জিততে হলে ট্রাম্পকে অবশ্যই এই চার অঙ্গরাজ্যে জয়ী হতে হবে। তবে জরিপে দেখা গেছে, নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভেনিয়ায় ট্রাম্পের চেয়ে অনেকাংশে এগিয়ে হিলারি।
এদিকে, ই-মেইল কেলেঙ্কারির জের ধরে গত দুই সপ্তাহ ধরে হিলারির জনপ্রিয়তা কিছুটা পড়তির দিকেই ছিল। কিন্তু বুধবার প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসোস জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের চেয়ে হিলারির এগিয়ে থাকার ব্যবধান ৬ শতাংশ বেড়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অন্য যেকোন বারের চেয়ে অন্যরকম। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেটা হয়েছে ট্রাম্পের কারণেই। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে পরাজিত হলে ট্রাম্প সহজেই ফলাফল মেনে নেবেন না বলেও মনে করছেন তারা।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট, রিপাবলিকান জর্জ বুশ সিনিয়র এবং জর্জ বুশ জুনিয়রও হিলারিকে ভোট দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
জর্জ বুশ সিনিয়রের এক নাতি টেক্সাসের ল্যান্ড কমিশনার রিপাবলিকানদের এক জনসভায় একথা জানিয়েছেন।