যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষণ গণনার শেষ হচ্ছে— আজ (মঙ্গলবার) দেশটির জনগণ তাদের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে ভোট দেবেন। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় শুরু হবে এ ভোটগ্রহণ।
এদিকে, একেবারে শেষ মুহূর্তেও প্রধান দুই প্রার্থী তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে জোর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।
হিলারি তার শেষ নির্বাচনী বক্তব্য রাখেন ফিলাডেলফিয়ায়। বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার সব যোগ্যতাই তার রয়েছে। আর নিউ হ্যাম্পশায়ারে শেষ নির্বাচনী প্রচারে শক্তিশালী আমেরিকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অভূতপূর্ব। এই প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রাজনীতি বিষয়ে একেবারেই অনভিজ্ঞ পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে এবার যত কাদা ছোঁড়াছুড়ি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমনটি কখনোই হয়নি।
দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডেমোক্রেটিক দলের হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষমুহূর্তে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোতে জোর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটান। স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় সমাবেশে বক্তব্যের মাধ্যমে হিলারি তার নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন। নির্বাচনের শেষমুহূর্তে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে হিলারির সঙ্গে ছিলেন বর্তমান ফার্স্ট লেডি মিলেশ ওবামা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
এছাড়াও ছিলেন হিলারির স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ওবামা বলেন, তার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
হিলারি তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনে বাছাইয়ের ব্যাপারটি খুব স্পষ্ট। মার্কিনদের হয় বিভেদ, নয় ঐক্যকে বেছে নিতে হবে। হিলারি জানান, সব মার্কিন নাগরিকের স্বার্থ রক্ষাই তার লক্ষ্য।
এদিকে, নিউ হ্যাম্পশায়ারে শেষ বক্তব্য রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রেট আমেরিকা গঠনের প্রত্যয় আবারো ব্যক্ত করেন তিনি।
মঙ্গলবার ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ভোটাররা ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। এছাড়া, মার্কিন নাগরিকরা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্যকে নির্বাচিত করতেও ভোট দেবেন। ভোটাররা
এদিন, ১২টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরকেও নির্বাচিত করবেন। পরে ১৯ ডিসেম্বর বিভিন্ন রাজ্যের ইলেক্টররা সংশ্লিষ্ট রাজ্যে মিলিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন। যে রাজ্যে যে প্রার্থী বিজয়ী হন, ঐতিহ্যগতভাবে সেই রাজ্যের সব ইলেক্টর তাকেই ভোট দেন। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট শপথ নেবেন ২০ জানুয়ারি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ইলেক্টোরাল ভোট ৫৩৮টি।
বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে অবশ্যই ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হবে।