মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন।
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় হোয়াইট হাউসে দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এবং বিদায়ী প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠক হবে। এসময় ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে দু'জনের মধ্যে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পলিসি নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করবেন ওবামা।
নির্বাচনে বিজয়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারে তার স্টাফদের সঙ্গে বৈঠকে কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন।
আজ- হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করবেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
দেশটির আগামী ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও তার সঙ্গে থাকবেন— তিনি বর্তমান ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে আলাদা বৈঠক করার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প তার প্রশাসনে কাকে কোন পদ দিচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। প্রচারের পুরো সময় ধরে বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ট ছিলেন এমন ব্যক্তিদের মার্কিন প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের শীর্ষপদে আনছেন নতুন প্রেসিডেন্ট-এমনটাই বলছে মার্কিন সংবাদমাধ্যগুলো।
চিফ অব স্টাফ পদে সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচ, নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি, নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানির নাম শোনা যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে অ্যালাবামা সিনেটর জেফ সেসানস, নিউট গিংরিচকে দেখা যেতে পারে। সিআইএ ডিরেক্টর পদে নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানিকে দেয়া হতে পারে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে জেফ সেসানস, আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জিম ট্যালেন্টের নাম শোনা যাচ্ছে।
এদিকে, প্রচারণার সময় অক্টোবরের শেষের দিকে ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা আমেরিকানদের সামনে তুলে ধরেন। এর মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। ওই পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। ওয়াশিংটনে দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো, যার মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস সদস্যদের মেয়াদ সীমিত করার জন্য আইন প্রণয়ন, আমেরিকান শ্রমিক শ্রেনীর স্বার্থ রক্ষা, আইনের শাসন পুনপ্রতিষ্ঠা। এছাড়া রয়েছে, ওবামা কেয়ার বাতিলের জন্য আইন প্রনয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা, যাতে অবৈধ অভিবাসন ঠেকিয়ে বেকার আমেরিকানদের ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ করে দেয়া। অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, বিচারক নিয়োগ যারা সংবিধান সমুন্নত রাখবেন, জ্বালানি উৎপাদনে ফেডারেল বিধি নিষেধ তুলে নেওয়া। আর এসব সংস্কারের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সব কিছুর আগে আমেরিকার স্বার্থকে গুরুত্ব দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
এছাড়া ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তার প্রথম দিনেই মেস্কিকো ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নাফটা নিয়ে পুনরায় আলোচনা বা এ থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিবেন।
ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা, চীনকে মুদ্রা ম্যানিপুলেটর হিসেবে চিহ্নিত করা এ পর্যন্ত ওবামার নেয়া সব অসাংবিধানিক নির্বাহী পদক্ষেপ, জারি করা নির্দেশ সবই বাতিল করবেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী বিদায় করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন তিনি।
এদিকে, ওবামা ডেমোক্রাট দলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকেও দেশব্যাপী জোরালো নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ধন্যবাদ জানাতে টেলিফোন করেছেন।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বুধবার বিকেলে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে তার বক্তব্য প্রদানের কথা রয়েছে।
আর্নেস্ট বলেন, ওবামা হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী মৌসুমের পর একটি দেশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
বৃহস্পতিবার ওবামা ও ট্রাম্প দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে আলোচনার ব্যাপারেও কথা বলেন।
আর্নেস্ট বলেন, নির্বিঘ্ন ক্ষমতা হস্তান্তরকে প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী বছরের শুরুর অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ এ লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ।