মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে হোয়াইট হাউসে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এ ব্যপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ওবামা বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় তিনি উৎসাহিত।
জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রসিডেন্ট হিসেবে ওবামার পরামর্শ নেবেন। বারাক ওবামার সঙ্গে তার এই সাক্ষাত বিশাল সম্মানের ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন তারা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় হোয়াইট হাউসে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তারা আলোচনা করেন।
পরে খুব স্বল্প সময়ের জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তারা।
এ সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার পরামর্শ নিবেন। জবাবে ওবামা বলেন, তিনি ট্রাম্পকে সব ব্যাপারে সহায়তা করবেন। ট্রাম্প যদি সফল হন তবে আমেরিকা সফল হবে।
পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে বর্তমান ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন ভবিষ্যত ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ওবামা ও ট্রাম্পের ওই বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফয়ে বলেন, সুষ্ঠভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রশাসন সবধরণের সহায়তা দিবে।
ট্রাম্প তার প্রশাসনে কাকে কোন পদ দিচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। প্রচারের পুরো সময় ধরে বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ট ছিলেন এমন ব্যক্তিদের মার্কিন প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের শীর্ষপদে আনছেন নতুন প্রেসিডেন্ট- এমনটাই আভাস দিচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যগুলো।
চিফ অব স্টাফ পদে সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচ, নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি, নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানির নাম শোনা যাচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক লে. জেনারেল মাইকেল ফ্লিন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী পদে অ্যালাবামা সিনেটর জেফ সেসানস, নিউট গিংরিচ, অ্যামেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জন বল্টন, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেসন্সের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড হ্যাস, টেনেসির বব কর্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।
সিআইএ ডিরেক্টর পদে নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানিকে দেয়া হতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে জেফ সেসানস, আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিউটের সিনিয়র ফেলো জিম ট্যালেন্ট, অ্যারিজোনা সিনেটর জন কিল, প্রতিনিধি পরিষদে ক্যালিফোর্নিয়ার সদস্য ডানকান হান্টারের নাম শোনা যাচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল পদে জেফ সেসাসনস, নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি এবং রুডি জুলিয়ানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, প্রচারণার সময় অক্টোবরের শেষের দিকে ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা আমেরিকানদের সামনে তুলে ধরেন। এর মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। ওই পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।
ওয়াশিংটনে দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো, যার মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস সদস্যদের মেয়াদ সীমিত করতে আইন প্রণয়ন, আমেরিকান শ্রমিক শ্রেনীর স্বার্থ রক্ষা, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
এছাড়া রয়েছে, ওবামা কেয়ার বাতিলের জন্য আইন প্রনয়ন, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, বিচারক নিয়োগ যারা সংবিধান সমুন্নত রাখবেন, জ্বালানি উৎপাদনে ফেডারেল বিধি নিষেধ প্রত্যাহার।
আর এসব সংস্কারের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সব কিছুর ঊর্ধ্বে আমেরিকার স্বার্থকে স্থান দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
ট্রাম্প তার প্রথম ১০০ দিনে সকল জলবায়ু চুক্তি বাতিল, ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশীপ থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা, চীনকে মুদ্রা ম্যানিপুলেটর হিসেবে চিহ্নিত করা, ওবামার নেয়া সব অসাংবিধানিক নির্বাহী পদক্ষেপ ও নির্দেশ সবই বাতিল করবেন।