নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই জন নিহত হওয়ার পর আবারো ছয় দশমিক এক মাত্রার শক্তিশালী একটি পরাঘাত হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ক্রাইস্টচার্চের উত্তর পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে পরাঘাতটির উৎপত্তি হয়।
এর আগে একইদিন মধ্যরাতের পর ওই এলাকায় ৭.৮ ভূমিকম্প কেপে উঠেছিল। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিও ভূপৃষ্ঠের একই গভীরতায় হয়েছিল। ভূমিকম্পের পর সাউথ আইল্যান্ডে সুনামিও আঘাত হানে।
প্রথম ভূমিকম্পের পর থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কয়েশত পরাঘাত হয়েছে, এতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
প্রথম ভূমিকম্পের পর প্রায় দুই মিটার উঁচু সুনামির ঢেউ দেশটির পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ কিছু এলাকা থেকে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
পূর্ব উপকূলের বাসিন্দাদের উদ্ধার করার পাশপাশি সেখান থেকে তাদের সরিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পের পর কাইকৌরা টাউনে ধসে পড়া একটি বাড়ি থেকে শতবর্ষী এক নারী ও তার পুত্রবধুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই বৃদ্ধার পুত্রের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া কাইকৌরার দক্ষিণ পশ্চিমে মাউন্ট লাইফোর্ডে এক নারী মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিধসে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কাইকৌরার প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি শহরটির টেলি যোগাযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নিচ্ছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জন কি সোমবার হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস হতাহতের সংখ্যা কমই থাকবে।
নিউজিল্যান্ডবাসী প্রায়ই ভূমিকম্পের মোকাবিলা করে থাকেন। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয় মেখলা’ নামের ফল্ট লাইনের ওপর নিউ জিল্যান্ড দ্বীপটির অবস্থানের কারণে এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। ‘আগ্নেয় মেখলা’ প্রায় পুরো প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে রেখেছে এবং এই ভূ-চ্যুতি বরাবর প্রায়ই বড় ধরনের ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত হয়।