যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
সাক্ষাৎ শেষে আবে বলেন, ট্রাম্পের ওপর তার ব্যাপক আস্থা রয়েছে।
শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দিতে পেরু যাওয়ার পথে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাত্রাবিরতির ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে আবের সাক্ষাৎ হয়।
ট্রাম্প টাওয়ারে দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে বৈঠক হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ প্রথম কোনো বিদেশি নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হলো।
আব জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে উষ্ণ পরিবেশে খোলামেলাভাবে আলোচনা হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রাম্পের ওপর তার ব্যাপক আস্থা আছে— এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত।
আবে আরো বলেন, তিনি ও ট্রাম্প একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়তে পারবেন বলে মনে করেন।
এর আগে দেশত্যাগের আগে আবে বলেছিলেন, তিনি ট্রাম্প সরকারের সঙ্গে আস্থা গড়ে তুলতে চান। সমৃদ্ধি ও বিশ্বশান্তির জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপানের কাছের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ পরবর্তী জাপানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে আনেকটা পাশে থেকেই একে অন্যের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তন না আনতে এই বৈঠক বেশ ফলপ্রসু হবে বলে শিনজো আবে মনে করেন। যুক্তরাষ্ট্র আরও বিনিয়োগ করবে জাপানে এমন বিশ্বাসও তার।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নেও জাপানকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের পারমাণবিক শক্তি সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেজন্য পাশে থাকে মার্কিন মুলুক।
বেশ অকপটে আলাপ হয়েছে জানিয়ে আবে বলেন, আমি বিশ্বাস করি পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা ছাড়া দুই দেশের জোট এগিয়ে যেতে পারবে না। আর সম্পর্কের বিষয়ে আমার পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে বার্লিনে শেষ সফরে এসে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন বারাক ওবামা। মস্কো সিরিয়া ও ইউক্রেনের মতো ইস্যুগুলোতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এসময় জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ওবামা দুজনই তাদের দুই দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার ঘনিষ্ট সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বরোপ করেছেন।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার পদত্যাগ করেছেন। ট্রাম্প তার সরকারের বিভিন্ন পদে নিজের পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন- এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ক্ল্যাপার সরে দাঁড়ালেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে চলা ট্রাম্পের সঙ্গে আবের এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে।