হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার প্রথম দিনেই বাণিজ্য সহযোগিতা চুক্তি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ট্রেড ডিল (টিটিপি) বাতিল করবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প একথা জানান।
বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনীতির কমপক্ষে ৪০% অধিকারী এমন ১২টি দেশ ২০১৫ সালে চুক্তিটি করে। এদিকে, টিটিপির জোরালো সমর্থক জাপান বলছে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এ চুক্তি অর্থহীন।
২০ জানুয়ারি শপথ নেয়ার পর প্রথম কোনো পদক্ষেপ নেবেন সে বিষয়ে সোমবার এক ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই বাণিজ্য সহযোগিতা চুক্তি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ট্রেড ডিল (টিটিপি) বাতিল করবেন তিনি। ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, তার সরকারের প্রথম লক্ষ্যই হবে আমেরিকাকে শীর্ষে ফিরিয়ে আনা।
যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকোসহ বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনীতির কমপক্ষে ৪০% অধিকারী এমন ১২টি দেশ ২০১৫ সালে এই টিটিপি চুক্তি করে। এ চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো।
তবে চুক্তিটি এখনো সবগুলো দেশের অনুসমর্থন পায়নি আর এর বিরোধিতাকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী চুক্তিটি হয়েছে গোপনে, যা কেবল বড় কোম্পানিগুলোকেই সুবিধা করে দেবে।
এ চুক্তির পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে জাপান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন।
অবশ্য ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর অ্যাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়া এ চুক্তি অর্থহীন হয়ে পড়বে।
এদিকে, ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ট্রেড ডিল (টিটিপি) বাতিল করা ছাড়াও ট্রাম্পের ওই ভিডিও বার্তায় হোয়াইট হাউসে তার প্রথমদিনের কার্যক্রমে আরো যে বিষয়গুলি থাকবে বলা হয়েছে, সেগুলি হল- যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উত্তোলনের বিধিনিষেধ তুলে দেয়া, ব্যবসার ক্ষেত্রে নীতিমালা শিথিল করা, সাইবার হামলার বিরুদ্ধে লড়তে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা, অভিবাসীদের ভিসা অপব্যবহারের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ, সরকারি চাকরি ছেড়ে লবিস্ট হওয়ার ওপর ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ।