দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা নির্যাতন, হত্যা এবং দেশছাড়া করার সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকার পরও তা পুরোপুরি অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো আগ বাড়িয়ে সংবাদ দিচ্ছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, ধর্ষণসহ সব ধরনের নির্যাতনের জন্য রোহিঙ্গাদেরকেই দায়ী করছে মিয়ানমার সরকার।
আর এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য স্টেট কাউন্সিলর সু চি'র সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ সেনা-শাসিত সরকারের মতোই অস্বীকার করেছে দেশটির গণতান্ত্রিক সরকার।
এ ইস্যুতে চলতি সপ্তাহে দেশটির সামরিক সূত্রের বরাতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে যেসব রিপোর্ট আসছে তা অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।
একইসঙ্গে রাখাইন রাজ্যে যেসব সহিংসতা হয়েছে তার জন্য রোহিঙ্গাদেরকেই দায়ী করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জ হাতওয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া, ধর্ষণসহ সব ধরনের নির্যাতনের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিয়ে কথা বলতে স্টেট কাউন্সিলর সু চির সঙ্গে বারবার সাক্ষাতের চেষ্টা করার পরও তা সম্ভব হয়নি।
আর বিবিসি তাদের এক বিশ্লেষণে বলছে, রাখাইন রাজ্যে যা ঘটছে সে বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্তের পদক্ষেপ নিলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাত হতে পারে সু চির সরকারের।
সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাটাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে আর একারণেই এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন সু চি।
এদিকে, মুহুর্মুহু চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের ঘটনা তদন্তে টাস্ক ফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। মিয়ানমার টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
এর আগে পত্রিকাটি জানিয়েছিল, রাখাইন রাজ্যে 'আরাকান ন্যাশনাল পার্টি-এএনপি' থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যরাও মনে করেন যে, সেখানে সহিংসতা মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ খুবই অপর্যাপ্ত।
সংখ্যালঘু মুসলিমদের দেশছাড়া করাটা মিয়ানমারের জন্য শোভনীয় নয়।