কিউবার মহান বিপ্লবী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো আর নেই।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাতে হাভানায় তিনি মারা যান।
কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুডতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার এ বিপ্লবী নেতার মৃত্যুত সংবাদ জানার পরপরই বঙ্গভবনের এক শোক বার্তায় বলা হয়, ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যু্ বিশ্ব রাজনীতির জন্যন এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার সংগ্রামের কথা বিশ্ববাসী আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
৯০ বছর বয়সে মারা যান সমাজতান্ত্রিক কিউবার প্রতিষ্ঠাতা ফিদেল কাস্ত্রো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো এই কমিউনিস্ট নেতার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বঙ্গব্ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।
রাষ্ট্রপতি শোক বার্তায় কিউবার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এএফপির খবরে জানানো হয়, কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করেন, স্থানীয় সময় গতকাল রাত ১০টা ২৯ মিনিটে কাস্ত্রো মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। স্থানীয় সময় শনিবার তাকে সমাহিত করা হবে।
কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয়ার পর ফিদেল কাস্ত্রো দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বামপন্থী নেতৃত্বের উত্থান ভালোভাবে নেয়নি দেশটি। কাস্ত্রোকে বহুবার হত্যাচেষ্টা করা হয়। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।
স্বাস্থ্যগত কারণে ২০০৬ সাল থেকে কাস্ত্রোর জনসমক্ষে আসা কমতে থাকে, ২০০৮ সালে ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তিনি। অনেক দিন ধরেই ফিদেলকে জনসমক্ষে কম দেখা যেত।
গত ১৩ আগস্ট মহাসমারোহে ফিদেল কাস্ত্রোর ৯০ তম জন্মদিন উদযাপন করে কিউবার জনগণ ওই অনুষ্ঠানেও সবার সামনে আসেননি তিনি।
ক্যাস্ত্রোর জীবনী ও রাজনীতি:
ফিদেল আলেসান্দ্রো ক্যাস্ত্রো রুজের জন্ম ১৩ আগস্ট ১৯২৬ সালে, কিউবার দক্ষিণ পূর্বঞ্চলীয় ওরিয়েন্তে প্রদেশে। দরিদ্র স্প্যানিশ দম্পতির ঘরে জন্ম হয় ফিদেলের। ১৩ বছর বয়স থেকেই আঁখের খামারি বাবা ও তার সহকর্মীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন ফিদেল।
তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার সময়। সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট ফালগেন্সিও বাতিস্তা ও কিউবার ওপর মার্কিন রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী লিখে পরিচিত হন ফিদেল। পরে ১৯৪৭ সালে নবগঠিত কিউবান পিপলস পার্টিতে যোগ দিয়ে তুখোড় বক্তা ও প্রতিবাদী ফিদেল দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মাত্র ১২৩ জন সঙ্গী নিয়ে ১৯৫৩ সালে মনকাডা ব্যারাক আক্রমণ করলে, দলবলসহ আটক হন তিনি। প্রেসিডেন্ট বাতিস্তা আটক সবাইকে হত্যার হুকুম দিলেও সে সময় বেঁচে যান ফিদেল। পরে জনপ্রিয়তার কারণে তার মৃত্যুদণ্ড না দিলেও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় বাতিস্তা সরকার। সেখানেও রাখতে পারেনি তাকে। দুই বছরের মাথায় ফিদেলকে ছেড়ে দেয়া হয়।
১৯৫৯ সালে এক সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একনায়ক ফালগেন্সিও বাতিস্তা সরকারকে পরাস্থ করে ক্ষমতা নেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। ৫৯ সাল থেকে শুরু করে ৭৬ পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৫ সালে কিউবা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হয়ে কিউবায় একদলীয় শাসন কায়েম করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে কিউবার প্রেসিডেন্ট অব দ্য কাউন্সিল অব স্টেট ও কাউন্সিল অব দ্য মিনিস্টার নির্বাচিত হন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। একি সঙ্গে দ্বায়িত্ব নেন সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড ইন চিফ হিসেবে।
টানা ৪৯ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৮ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছোট ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তিনি। সর্বশেষ আগস্টে জনসমক্ষে আসেন এই বিপ্লবী নেতা। তবে, এপ্রিলে কমিউনিষ্ট পার্টির কংগ্রেসে তিনি সর্বশেষ ভাষণ দেন। তিনি ছিলেন জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলেনর গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকার মেহনতি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন ক্যাস্ত্রো।