যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সাবেক মেরিন সেনা জেনারেল জেমস ম্যা টিসের নাম ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিবিসির প্রতিবেদনে ওহাইওতে সমর্থকদের নিয়ে এক সমাবেশের শুরুতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় ট্রাম্প বলেন, আমরা প্রতিরক্ষার দায়িত্ব দিতে যাচ্ছি ম্যাড ডগ ম্যা টিসকে।
‘ম্যাড ডগ’ নামে পরিচিত ম্যা টিস বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যপ্রাচ্য নীতির কড়া সমালোচক— বিশেষ করে ইরান বিষয়ে ওবামা প্রশাসনের সিদ্ধান্তেরও কট্টরবিরোধী ছিলেন তিনি।
ম্যা টিস বলে আসছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে ইরানই এখন ‘একমাত্র বড় হুমকি’।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ম্যা টিসকে ডিফেন্স সেক্রেটারির দায়িত্ব দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
নির্বাচনে জয়ের পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘ইউএসএ থ্যাংক ইউ ট্যুর’ এর আয়োজন করেছে রিপাবলিকান পার্টি। ওহাইও’র সিনসিনাটির সমাবেশের শুরুতেই পেন্টাগনের বস হিসেবে ম্যা টিসের নাম ঘোষিত হয়।
এর আগে ৬৬ বছর বয়সী ম্যা টিসকে তিনি ‘সত্যিকারের জেনারেলদের জেনারেল’ অভিহিত করেছিলেন।
অবসরপ্রাপ্ত এ মেরিন সেনা কর্মকর্তা ১৯৯১ এর প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে অ্যাসল্ট ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০০১ সালে দক্ষিণ আফগানিস্তানে একটি টাস্কফোর্সের কমাণ্ডারের দায়িত্বেও পালন করেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন ম্যা টিস, ফালুজার যুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমাণ্ডার পদে থেকে অবসরে যান ম্যা টিস।
বিবিসি জানিয়েছে, ম্যা টিসকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলোর মধ্যে্ হয়ত জনপ্রিয়তা পাবে তবে তার আগে ট্রাম্পকে একটি সাংবিধানিক বাধা পর হতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর উর্দি ছাড়ার পর অন্তত সাত বছর পার না হলে ডিফেন্স সেক্রেটারি হওয়া যায় না।
ওই আইন পাশ কাটিয়ে ম্যা টিসের নিয়োগ চূড়ান্ত করার বিষয়টি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে পাস করতে হবে। আর সিনেটের ডেমোক্রেট প্রতিনিধিরা তাতে বাগড়া দিতে পারেন ধারণা দেয়া হয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে আরেক অবসরপ্রাপ্ত তিন তারকা জেনারেল মাইকেল ফ্লিনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
ফ্লিন ২০১৪ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল।