মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যামলঘু রোহিঙ্গারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে আগুন দিচ্ছে বলে যে দাবি দেশটির সরকার ও সামরিক বাহিনী করে আসছে, তা প্রত্যাাখ্যারন করে কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংগঠনটি জানিয়েছে, রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রাম ওয়া পেইকের স্যা টেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছে, ওই গ্রামটি যখন জ্বালিয়ে দেয়া হয়, ওইসময় কাছের সেনাচৌকির সামরিক ট্রাকগুলো সক্রিয় ছিল।
এ বিষয়টি ঘটনার সময় ওই এলাকায় সেনা উপস্থিতি প্রমাণ করে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনের এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, একমাসের মধ্যেল রোহিঙ্গারা তিন শতাধিক বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে আর সেনাবাহিনী সেখানে উপস্থিত থাকার পরও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে- এটা বিশ্বাস করা কঠিন।
ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, কৃত্রিম উপগ্রহের এই ছবির কারণে মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তারা ধরা পড়ে গেছেন। বিষয়টি ক্রমাগতভাবে অস্বীকার করে আসায় তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে এখন তাদের তা স্বীকার করতে হবে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার সরকারের প্রধান মুখপাত্র জ হতেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্যর করতে রাজি হননি।
তিনি বলেছেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে সুতরাং এখন তিনি কোনো কথা বলবেন না।
বিবিসি জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের ওই তদন্ত দলের সদস্য্রা গত কয়েক দিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছেন। জানুয়ারির শেষভাগে তাদের প্রতিবেদন আসতে পারে।
আড়াই মাস আগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে দমনপীড়ন শুরুর পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তৃতীয় প্রতিবেদন এটি। এর আগে দেশটির সরকার বলে আসছিলে, সেনাবাহিনী নয়, রোহিঙ্গারাই বিশ্বের সহানুভূতি পেতে নিজেদের ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মংডু এলাকার স্যা টেলাইট ইমেজ থেকে বোঝা যাচ্ছে সেখানে অন্তত দেড় হাজার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যা গত ২৩ নভেম্বর পাওয়া ধারণার চেয়ে বেশি।
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের তিনটি সীমান্ত পোস্টে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’হামলায় নয় সীমান্ত পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জেলাগুলোতে শুরু হয় সেনা অভিযান। এরপর থেকে সহিংসতায় বহু রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন, সহিংসতা থেকে বাঁচতে কমপক্ষে ২৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে বলে জাতিসংঘের তথ্যস।
সেনা অভিযানে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া এবং বেসামরিকদের হত্যাোর অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ওই এলাকায় বিদেশি সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদেরও প্রবেশ করতে দেয়নি।
মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা অং সান সু চি রাখাইনে বৌদ্ধদের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরোধ বাড়ার জন্য উল্টো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দোষ দিয়েছেন। ওই বক্তব্যে র জন্য তাকে সমালোচিত হতে হয়েছে জাতিসংঘের কাছে। রোহিঙ্গাদের ওপর এই দমন-পীড়নকে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বর্ণনা করেছেন ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে।