তৃতীয়বার ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলে তিনিই জয়ী হতেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
এক টুইটে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বারাক ওবামা বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ভালো কাজ নিয়ে এখনও বিশ্বাসী মার্কিন নাগরিকরা। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি সেই কাজই করতেন যা দেশের জন্য ভালো হবে৷ এমন কাজ করতেন যা তাকে বেশি জনপ্রিয় করে তুলবে।
টানা দুই দফা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা ওবামার মেয়াদ জানুয়ারিতে শেষ হচ্ছে।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে জবাব দিয়েছেন সেটা কোনো মতেই না।
ওবামা তার সাবেক উপদেষ্টা ডেভিড অ্যা ক্সেলর্ডকে এক পডকাস্টে বলেন, আমেরিকার জনগণ হয়ত আবারো তাকে সমর্থন দিত।
২০০৮ সালে প্রথম দফার নির্বাচনে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে নির্বাচনে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ওবামা বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী; যদি দাঁড়াতে পারতাম, তাহলে জিততাম। আমার মনে হয়, অধিকাংশ আমেরিকানকে আমি এক কাতারে আনতে পারতাম।’
জবাবে ট্রাম্প মনে করিয়ে দিয়েছেন, ওবামার সময়ই বহু কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অফিস সরিয়ে নিয়েছে। ইসলামিক স্টেটের বিস্তার ঘটেছে। স্বাস্থ্যিসেবা কর্মসূচি ওবামাকেয়ারও সুবিধা করতে পারেনি।
হিলারি ক্লিনটনের মুখপাত্র ব্রায়ান ফ্যা লনও এক টুইটে বলেন, আবার দাঁড়ালে ওবামা জিততেন— আর হিলারিও জিততে পারতেন যদি ভোটের আগে আগে এফবিআই পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তার রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিগত ই মেইল সার্ভার ব্যবহার করার ঘটনা নিয়ে নতুন করে টানাটানি শুরু না করত।
হিলারি শিবিরের মতে, অবশ্যন ভোটের মাত্র দুদিন আগে তদন্ত সংস্থা এফবিআই ‘রায়’ দেয়, হিলারির ইমেইলকাণ্ডে দোষের কিছু তারা পায়নি। তবে পুরো ঘটনায় ভোটের মাঠ বড় ধরনের ঝাঁকি খায়।
ওবামা বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যো হিলারি যা করেছেন তা চমৎকার। তিনি ট্রাম্পের ভুলগুলো ধরেছেন, তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্মসূচি কর্মজীবী মানুষের যে উপকার করেছে, তা নিয়ে আরো প্রচার চালানো যেত।
গত ৮ নভেম্বরের ওই নির্বাচনে ট্রাম্প জিতে নেন ৩০৬ ইলেক্টোরাল ভোট। আর হিলারি পেয়েছিলেন ২৩২টি। যদিও মোট ভোটের হিসাবে দেখা যায়, ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি পেয়েছেন ৪৮.২ শতাংশ ভোট, যেখানে রিপাবলিকান পার্টির ট্রাম্পের পপুলার ভোট ছিল ৪৬.১ শতাংশ।
আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ট্রাম্প।