আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ৭টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরো কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে, সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর বিক্ষোভ ছড়িয়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা উঠেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।
মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে সম্প্রতি দেয়া নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানের নামও বিবেচনায় নিয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রাইন্স প্রিবাস গতকাল এক তথ্য বলেন, এবার নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হয়নি বলে ভবিষ্যতে যে হবে না, তা নয়। খবর জিও নিউজের।
সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণ দেখিয়ে লিবিয়া, ইরাক, ইরান, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে।
গতকাল ট্রাম্পের নেয়া এ পদক্ষেপের ব্যাপারে বলতে গিয়ে প্রিবাস বলেন, ‘সাত দেশ ছাড়াও পাকিস্তানের মতো আরও কয়েকটি দেশে এ ধরনের সমস্যা রয়েছে। আমরা সম্ভবত এসব দেশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেব।’
প্রিবাস বলেন, নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে যে সাত দেশকে বেছে নেয়া হয়েছে ওবামা প্রশাসন ও মার্কিন কংগ্রেস ওইসব দেশকে ভয়ানক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে বিবেচনা করত।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস বিমানবন্দরসহ পুরো দেশজুড়েই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলছে। বিশেষ করে বিমান বন্দরগুলোতে যেখানে আটকা পরেছেন বহু মুসলিম, যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চায়, হোয়াইট হাউজের সামনেও বিক্ষোভ হয়েছে।
একজন বিক্ষোভকারী ট্রাম্পের অভিসংশন দাবি করে বলেন যে, তার অভিশংসন হওয়া উচিৎ, আমাদের এই বৈষম্য বন্ধ করা উচিত, আমরা এভাবে সামনে এগুচ্ছি না, আমরা আসলে পিছিয়েই পড়ছি। দেশটি কিসে পরিণত হচ্ছে? এসব বন্ধ হওয়া দরকার।
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, প্রত্যেক বৈধ ব্যক্তিরই এদেশে আসা যাওয়ার অধিকার আছে। তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হওয়া উচিত নয় আমি মনে করি সবারই সে অধিকার থাকা উচিত।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সাতটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রের মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে একটি সংগঠন মামলা করলে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেন নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট জাজ অ্যান ডনেলি।
কিন্তু অবস্থানে অনড় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। লিখিত বক্তব্যে ট্রাম্প মুসলিম নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এসব কিছুর জন্যে মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণাকে দোষ দিয়েছেন। তিনি বলছেন যে, ৯০ দিনের মধ্যে সকল দেশের নাগরিককেই ভিসা প্রদান করা হবে।
এদিকে, ট্রাম্পের অভিবাসী ও শরণার্থী বিরোধী এমন সিদ্ধান্তে সমালোচনা হচ্ছে সারা বিশ্বে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শরণার্থীদের নিজ দেশে স্বাগত জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের সাথে সমালোচনা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলও।
ট্রাম্প প্রশাসন ৯০ দিনের জন্য ওই সাত দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আবার ১২০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে।
এরপর এসব দেশের বেশ কয়েকজন নাগরিককে বিমানবন্দরে আটক করা হয়। ওই আদেশের পর অবশ্য মার্কিন কেন্দ্রীয় একটি আদালত তালিকাভুক্ত সাত দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এতে আটক করা বিদেশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও মত দেয় আদালত।