অভিকাসী নাগরিকেরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন—সমাবেশ করছেন, তাদের বক্তব্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখনই এমনটাই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।
ক্ষমতা হস্তান্তর করে ওয়াশিংটন ছাড়ার ১০ দিনের মাথায় প্রকাশ্যে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন।
এদিকে, অভিবাসী কমাতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার বারাক ওবামার মুখপাত্র কেবিন লুইস বলেন, অভিবাসী নিষেধাজ্ঞায় ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশের অনুরূপ—এমন প্রচারণা চলছে।
ট্রাম্পের দাবি, ওবামা ২০১১ সালে বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন। এ রকম প্রচারণায় আহত হয়েছেন ওবামা।
ওবামার মুখপাত্র বলেন, ২০১১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশে শুধু ইরাকি শরণার্থীর কথা বলা হয়েছিল, তবে সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। ওবামা কোনো মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ দেখানো নিয়ে মৌলিকভাবে দ্বিমত পোষণ করেন।
কেবিন লুইস বলেন, ওবামা তার বিদায়ী বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের পাহারাদার হিসেবে নাগরিকদের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন করা নয়; নাগরিকদের সক্রিয় থাকতে হবে।
গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স দাবি করেছে, ট্রাম্পের আদেশ বিতর্কিত। এতে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হয়েছে। প্রথম সংশোধনীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের গভর্নর জে ইন্সলি বলেছেন, তিনিও একটি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কারণ, ধর্ম বা জন্মের ভিত্তিতে কোনো মানুষের প্রতি সরকার বিদ্বেষ দেখাতে পারে না।