সাত মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয়া আদালতের নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল করে দিয়েছে ফেডারেল আপিল আদালত।
রোববার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির নবম ফেডারেল আপিল আদালতে ট্রাম্পের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আবেদন জানালে আদালত সেটি নাকচ করে দেয়।
তবে সোমবার দুপুরের মধ্যে আপিল আদালত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পক্ষে আরও শক্তিশালী যুক্তি দেখাতে বলেছে।
ফলে আপিলটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় এ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ শুনানি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা জারি থাকবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া নিষেধাজ্ঞাটি 'অসাংবিধানিক' এবং 'পক্ষপাতমূলক'।
শুক্রবার সিয়াটলের ফেডারেল জজ জেমস রবার্ট মুসলিম দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরই আপিল করে ট্রাম্প প্রশাসন।
আদালতের স্থগিতাদেশের প্রতিক্রিয়ায় এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের আইনি রুলিংয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র খারাপ ও বিপজ্জনক মানুষে ভরে যেতে পারে।
বিসির খবরে জানানো হয়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিলকারীদের মধ্যে ট্রাম্প ছাড়াও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী জন কেলি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রয়েছেন।
আপিলে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এর আগে একাধিক টুইটে ট্রাম্প বিচারক জেমস রবার্টের দেয়া স্থগিতাদেশের সমালোচনা করেন।
আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকেরা এখন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার আইনি বৈধতা পেয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ওই দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের তাদের ফ্লাইটে বহন করা হবে বলে জানিয়েছে।
গত ২৭ জানুয়ারি ট্রাম্পের দেয়া নির্বাহী আদেশে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর ৯০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এ দেশগুলোর ভিসা পাওয়া লোকজনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। অনেকে শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে এসে আটক হন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণের কর্মসূচি ১২০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে ওই সাত দেশে দেয়া প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ভিসা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস বিভাগ বলেছে, ওই ভিসাগুলো এখন আবার ইস্যু করা হবে আর সে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণও করতে পারবেন।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর তীব্র সমালোচনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্দোলনসহ বিমান বন্দরগুলোরতে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
ওয়াশিংটন, মিয়ামিসহ দেশটির অন্যান্য শহরে ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে এখনো বিক্ষোভ চলছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর প্রায় ৬০ হাজার ভিসা বাতিল করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।