সোমালিয়ায় দেশটিতে চলমান মারাত্মক খরায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান আলি আইরে।
এ সংকটময় সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বে অঞ্চলে এ মৃতের ঘটনা ঘটেছে। এ প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগটির কারণে মৃত্যুর সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হল।
দেশটিতে খরার কারণে কি প্রভাব পড়েছে তার সম্পূর্ণ চিত্র এখনো ফুটে উঠেনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মানবিক সংস্থাগুলো আগামী দিনগুলোতে দেশটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে।
বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩০ লাখ লোক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
বে অঞ্চলের আউদিনলে শহরে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রায়ই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুলাহি ফারমাজো মঙ্গলবার এ খরাকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
খাবারের অভাবও ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ, খরার কারণে দেশটিতে চরম খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগটির কারণে বিপুল সংখ্যক গৃহপালিত পশুও মারা যাচ্ছে।
সোমালিয়ায় ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। এর আগে ১৯৯২ সালের দুর্ভিক্ষে দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার লোক প্রাণ হারায়।
আফ্রিকা মহাদেশের পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলে ‘এল নিনোর’ প্রভাবে সোমালিয়াতে চলছে এ খরা।
উল্লেখ্য, এল নিনো হচ্ছে বায়ুম-লীয় এবং গ্রীষ্মম-লীয় অঞ্চলের সমুদ্রগুলোর মাঝে একটি পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই।
তবে ৩ থেকে ৮ বছরের মধ্যে এটি দেখা যায়। এটি ‘এল নিনো দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্যায়বৃত্ত পরিবর্তন’ নামেই বেশি পরিচিত।
জাতিসংঘ চারটি দেশকে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ঘোষণা করেছে। এগুলো হলো সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেন।