লন্ডনে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে হামলাকারীর সঙ্গে আর কারা কারা ছিল তা খুঁজছে ব্রিটিশ পুলিশ। এর মধ্যেই অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই হামলাকারী ব্রিটেনে জন্ম নেয়া ব্রিটিশ নাগরিক বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে একসময় তদন্ত চালিয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভ।
বুধবার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে হামলাকারীর ছুরিকাঘাত, গোলাগুলি ও নিকটবর্তী ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজের কাছে গাড়িচাপার ঘটনায় ৪ জন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন। বিশ্বনেতারা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে এক হামলাকারী পথচারীদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিলে তিন জনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর ওই ব্যক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমন্সে অধিবেশন চলাকালে ভবনের বাইরে ছুরি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
এরপর হামলাকারী পার্লামেন্টের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায়।
এ ঘটনায় তিনজন ফরাসি স্কুল শিক্ষার্থী, রোমানিয়ান দম্পতি, দক্ষিণ কোরিয়ার ৫ নাগরিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। হতাহতদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে মধ্যরাত থেকে বাতি নিভিয়ে রাখা হয়।
হামলার পরপরই পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে, পার্লামেন্ট অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মেসহ পার্লামেন্ট সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাস দমন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মার্ক রোলে জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস হামলাকারী সম্পর্কে তাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল এবং ওই ব্যক্তি ইসলামি সন্ত্রাসবাদে অনুপ্রাণিত। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানি তিনি।
ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলার পর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে এক ব্রিফিংয়ে, সন্ত্রাসের কাছে ব্রিটেন হার মানবে না- এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে মে বলেন, বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক নিয়মে আবার সংসদ অধিবেশন বসবে।
এদিকে, ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল যুক্তরাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এছাড়া ফ্রান্স-কানাডাও ব্রিটেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।