যুক্তরাজ্যের লন্ডন ব্রিজ ও কাছের একটি মার্কেটে সন্ত্রাসী হামলায় ৬ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছে। সন্দেহভাজন ৩ হামলাকারীও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে লন্ডন ব্রিজে একটি ভ্যান রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে ওপর উঠে পড়ে পথচারীদের চাপা দেয়। পরে ওই ভ্যান থেকে ৩ জন ছুরি নিয়ে নেমে ব্রিজের ওপর ও নিকটবর্তী বোরা মার্কেটে কয়েকজনকে ছুরিকাঘাত করে।
এদিকে, ব্রিজের কাছেই ভক্সহলে ছুরি নিয়ে আরেক ব্যক্তি হামলা চালায় বলেও জানিয়েছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে এই হামলাকে ‘ভীতিকর ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সরকারের নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি।
ম্যানচেস্টারের সন্ত্রাসী হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সাধারণ নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন আগে আবারো রক্তাক্ত হলো লন্ডন। স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে লন্ডন ব্রিজে একটি ভ্যান বেশ কয়েকজন পথচারীকে চাপা দেয়।
পরে ওই ভ্যান থেকে সন্দেহভাজন ৩ ব্যক্তি ছুরি নিয়ে নেমে পড়ে। তারা ব্রিজের ওপর পথচারীদের এবং নিকটবর্তী বরো মার্কেটে মানুষজনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। বরা মার্কেটে বেশ কয়েকটি রেস্তোরা ও বার রয়েছে।
একে ‘সন্ত্রাসী’ হামলা উল্লেখ করে ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ৩ তিন ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। তারা ভুয়া বিস্ফোরক বেল্ট পরিহিত ছিল।
প্রায় একই সময় ব্রিজের কাছেই ভক্সহলে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় আরেক ব্যক্তি। এতে দুজন ছুরিকাহত হন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগ নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হামলার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে লন্ডন ব্রিজ ও লন্ডন ব্রিজ রেল স্টেশন। পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে এ হামলাকে ‘ভীতিকর ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এর নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি পরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত হামলা।
এ ঘটনায় শোক ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁসহ ও বিশ্বনেতারা।
গত মাসে ম্যানচেস্টার অ্যারেনায় মার্কিন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে বিস্ফোরণে ২২ জন নিহত হন। এর আগে গত মার্চে লন্ডন ব্রিজে গাড়ি চাপা ও অধিবেশন চলাকালে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিন জন নিহত হন।