লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনের প্রচারণা চলছে ব্রিটেনে। বৃহস্পতিবার দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগাম সাধারণ নির্বাচন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে বলেছেন, নির্বাচিত হলে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় মানবাধিকার আইন পরিবর্তন করবেন তিনি।
এর প্রতিক্রিয়ায় লেবার পার্টি বলছে, এমন কোনো বার্তা সমাজ কিংবা সন্ত্রাসীদের কাছে পৌছাতে চান না তারা। এবার নির্বাচনে পার্রামেন্টে যাওয়ার লড়াইয়ে বিভিন্ন দলের হয়ে ১৪ ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ম্যানচেস্টার ও লন্ডনে দুটি সন্ত্রাসী হামলার পর ব্রিটেনের রাজনৈতিক দলগুলো 'জঙ্গিবাদ' ও 'নিরাপত্তা' ইস্যুকে শেষ মুহূর্তের প্রচারণার অস্ত্র করেছে। ৮ জুন দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
৬৫০ আসনের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নির্বাচনে এবার ১২টি রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ হাজার ৩০৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে সহ ২৯ শতাংশ নারী প্রার্থী নির্বাচনে লড়বেন। এবারের লড়াইয়ে আছেন গতবারের লেবার পার্টি থেকে বিজয়ী বাংলাদেশের ৩ নারী রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হক।
তাদের সঙ্গে প্রার্থী হয়েছেন আনোয়ার বাবুল মিয়া, মেরিনা আহমদ, রওশন আরা, ফয়সল চৌধুরী এমবিই ও আব্দুল্লাহ রুমেল খান। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীর হয়ে সাজু মিয়া, আর আফজল হোসেন লড়ছেন ফ্রেন্ডস পার্টির হয়ে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন আজমল মাশরুর, অলিউর রহমান, আবু নওশাদ ও ব্যারিস্টার মির্জা জিল্লুর।
সর্বশেষ জনমত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, কনজারভেটিভ প্রার্থী টেরিসা মে'র সঙ্গে লেবার নেতা জেরেমি করবিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। জরিপে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আভাস মিলছে।
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় টেরিসা মে সব কিছুকে ছাপিয়ে ইসলামী জঙ্গিবাদকে গুরুত্ব দেন। নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের যথেষ্ট ক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মানবাধিকার আইনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
মে আরো বলেন, তিনি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের স্বাধীনতা সীমিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আরো সহজ করতে চান।
এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় লেবার পার্টি বলছে, এমন কোনো বার্তা তারা দিতে চায় না আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা বলছে, এর ফলে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসী নয় বরং মানুষের স্বাধীনতাই ক্ষুণ্ণ করতে চাইছেন।