নজিরবিহীন নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় এ ভোট শুরু হয়ে চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। কনজারভেটিভ ও লেবার দলের শীর্ষ দুই নেতা টেরিসা মে ও জেরেমি করবিন ব্রেক্সিট, অভিবাসন, অর্থনীতি, স্কটল্যান্ড ও জননিরাপত্তা ইস্যুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রচারণায় মে বলেছেন, সঠিক ব্রেক্সিট চুক্তি তার পক্ষেই আনা সম্ভব। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি করবিনের। তবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সবকিছু ছাপিয়ে গুরুত্ব পায় সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা ইস্যু। এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যাওয়ার লড়াইয়ে আছেন ১৪ জন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি।
গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে ব্রিটেনবাসী রায় দেওয়ার পর গত এপ্রিলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তাই এ নির্বাচন ইউরোপের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
দেড় মাসের নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রতিশ্রুতিপর্ব শেষে প্রার্থীরা আজ ভোটারদের রায়ের মুখোমুখি। ইংল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ৪ কোটি ৬৯ লাখ ভোটার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৬৫০ আসনে নিজেদের প্রতিনিধি বেঁছে নেবেন।
নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতে ভালো ব্যবধানেই এগিয়ে ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে। গত মাসে লেবার পার্টির চেয়ে ১৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও গত দুদিনে দুই দলের রেটিং ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ পয়েন্টে। তাই কনজারভেটিভ প্রার্থী মে'র সঙ্গে লেবার নেতা জেরেমি করবিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
এদিকে, তিন মাসের ব্যবধানে ব্রিটেনে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে। ফলে ভোটের আগ মুহূর্তে সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি মে চেষ্টা চালান ব্রেক্সিট ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসার।
তবে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে নির্বাচনী প্রচার সীমাবদ্ধ রাখেননি লেবার পার্টির ব্যাকব্যাঞ্চার থেকে দলে দায়িত্ব নেয়া করবিন। নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতিতেও এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি। যাদের মধ্যে আছেন গতবার লেবার পার্টি থেকে বিজয়ী রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হক।
তাদের সঙ্গে প্রার্থী হয়েছেন আনোয়ার বাবুল মিয়া, মেরিনা আহমদ, রওশন আরা, ফয়সল চৌধুরী এমবিই ও আব্দুল্লাহ রুমেল খান। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে সাজু মিয়া, আর আফজল হোসেন লড়ছেন ফ্রেন্ডস পার্টির হয়ে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আজমল মাশরুর, অলিউর রহমান, আবু নওশাদ ও ব্যারিস্টার মির্জা জিল্লুর।