যুক্তরাজ্যে চলছে সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড়—এরইমধ্যে অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার শীর্ষ ৫টি পদ চূড়ান্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে।
পার্লামেন্ট নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও করজারভেটিভ পার্টির নেতা মে বলেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন। ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিকে নিয়ে তার দল সরকার গঠন করবে। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৯ জুন ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল।
দলের ভেতরে বাইরে তীব্র অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও ব্রিটেনে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ কনজারভেটিভ দলের পক্ষে শিগগিরই ঘোষিত হতে যাচ্ছে মে'র নতুন নেতৃত্ব।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের বিশ্লেষণে, ঝুলন্ত এ পার্লামেন্টকে 'স্তব্ধ পার্লামেন্ট' আখ্যা দেয়া হয়েছে। গঠিত হতে যাওয়া সরকারকে ইতিহাসের দুর্বলতম সরকার আখ্যা দিয়ে আভাস দেয়া হয়েছে, খুবই ক্ষণস্থায়ী হবে আসন্ন সরকারের ভবিষ্যত।
শুক্রবার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় দেশটিতে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে যাচ্ছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো মে'কে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, আসন হারানোর মধ্যদিয়ে নেতৃত্বের যোগ্যতা হারিয়েছেন মে। নিজ দলের অনেক এমপিও তাকে পদত্যাগ করতে বলেন।
তবে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে মে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের অনুমতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিকে নিয়ে সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এ নিয়ে দলটির সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। এছাড়া নির্বাচনে কনজারভেটিভরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান টেরিসা মে।
তিনি আরো বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক্সিট আলোচনায় তার সরকারই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।
এরইমধ্যে অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার শীর্ষ ৫টি পদ চূড়ান্ত করেছেন মে।
জানা গেছে, আগের মতোই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে থাকছেন স্যার মাইকেল ফ্যালন, ব্রেক্সিট সেক্রেটারি ডেভিড ডেভিস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অ্যাম্বার রুড, অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পদে থাকছেন বরিস জনসন।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৯ জুন ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু করতে কোনো বাধা আছে বলে মনে করেন না তিনি।