যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়েছে আর এ সন্ত্রাসের মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছে মুসলিম জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি। কিন্তু কেন? সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন বিশ্বজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব তৈরী হওয়া,এসিডের সহজপ্রাপ্যতা, এবং যুক্তরাজ্যে পুলিশের সংখ্যা কমিয়ে আনা পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে লন্ডনে স্ত্রী, সন্তানসহ অ্যাসিড আক্রমণকারীদের তাড়া খেয়ে, খেলা ফেলে দেশে ফিরে আসেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। তিনি অবশ্য ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। কিন্তু লন্ডনে একের পর এক এসিড আক্রমণের ঘটনায় সত্যিই আতঙ্কে রয়েছেন সেখানকার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা।
ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠি কিংবা এশীয়দের ওপর হেট ক্রাইম বা বর্ণবাদী এসব আচরণ অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি। সেখানে গত দেড় মাসে অন্তত আটটি এসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই দেশটিতে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে রাতে দুই ব্রিটিশ বাংলাদেশি তরুণ এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার এসিড হামলা হয়েছে। আর গত ছয় মাসে লন্ডন ও ওয়েলসে হয়েছে চারশো'র বেশি। বেশিরভাগ হামলা হয়েছে, নিউহ্যাম, বার্কিং ও টাওয়ার হ্যামলেটসে। আর এই এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস।
একের পর এক এমন সব হামলার কারণ প্রসঙ্গে সেখানকার বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান ব্রিটিশ সরকার বাজেট কাটছাটের নামে পুলিশের সংখ্যা কমিয়েছে কয়েকগুন। এরফলে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া, বিশ্বজুড়ে মুসলিম বিরোধী মনোভাব তৈরী হওয়াও এসিড সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার কারণ।
জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে লন্ডনের বাসিন্দা অজন্তা দেব জানান, তিনি মনে করেন এটা রেসিয়াল মোটিভেটেড বা ইসলামোফোবিয়া। বলেন বিশেষ করে দেখলে তো আর ধর্ম বোঝা যায় না, তাই ধর্ম নির্বাশেষে সবাই আতঙ্কে রয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কগ্রস্ত বাসিন্দারা বলছেন, এসিড সন্ত্রাস মোকাবেলায় সরকারের এসিডের সহজলভ্যতা কমিয়ে বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করা উচিত, সেই সঙ্গে দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত।