মিয়ানমারের রাখাইনে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছেই—নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮জনে।
রাজ্যের পুরো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ শনিবারও অব্যাহত ছিল। নতুন এ হামলায় আরো ৯ জন নিহত হন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ চেকপোস্টে সমন্বিত হামলায় ৮৯ জন নিহত হন। রাখাইনের মংডু, রাথিডং ও বুথিদাউংয়ে সেনা সমাবেশ নিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরেই সেখানকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছিল।
বিদ্রোহ দমনের নামে সেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। সর্বশেষ সহিংসতার পর নির্মূল অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যায়।
গত বৃহস্পতিবার সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে নতুনভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পড়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ক্রমান্বয়ে সহিংসতা বাড়ায় সেখান থেকে কমপক্ষে ৪ হাজার অমুসলিমকে সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার।
অপরদিকে হাজার হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার রাতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা একটি সেনাঘাঁটিসহ ৩০টি পুলিশ স্টেশন ও সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালালে নতুন করে যে সহিংসতা শুরু হয় এতে ৮৯ জন নিহত হন। এরপর শনিবার আবারো হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ জনে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বিদ্রোহী ও বেসামরিকদের মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে সামরিক বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ চৌকিতে রোহিঙ্গাদের হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের দমন অভিযানে নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এতে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া এবং ধর্ষণের মতো অভিযোগ ওঠে।
অভিযানের মুখে প্রায় ৮৭ হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।