আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে হেলমান্দে গাড়িবোমা হামলায় সৈন্য ও বেসামরিক মানুষসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
প্রদেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল এ হামলায় আরো ১৮ জন আহত হয়েছেন।
হেলমান্দের গভর্নরের মুখপাত্র ওমর জওয়াক জানিয়েছেন, নাওয়া জেলার একটি বাজারে সামরিক বাহিনীর একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে।
হেলমান্দ প্রদেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নাওয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তালেবান বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াই হয়েছে।
আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, জুলাইয়ে তারা নাওয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে দুপক্ষের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
তবে এ হামলার পর কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি—তাৎক্ষণিকভাবে তালেবানের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই গোষ্ঠীটি নিয়মিতভাবে হেলমান্দে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে আসছে এবং প্রাদেশিক রাজধানী লশকর গাহ-র বাইরে প্রদেশটির অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইতালীয় ত্রাণ সংস্থার পরিচালিত লশকর গাহয়ের ইমার্জেন্সি হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, তাদের এখানে ৩টি মৃতদেহ এসেছে ও আহত ১৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে শহরটির বোস্ত হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের এখানে ১০ আহতকে ভর্তি করা হয়েছে।
এটি পরিষ্কার নয় যে হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত কেউ মারা গেছেন কি না। কারণ প্রাদেশিক কর্মকর্তার দেয়া হতাহতের সংখ্যার সঙ্গে হাসপাতাল দুটির দেওয়া তথ্যে গরমিল লক্ষ্য করা গেছে।
এ ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে লশকর গাহয়ে আরেকটি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছিল। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল তালেবান।
জঙ্গি এই গোষ্ঠীটি কাবুল সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া বিদেশি বাহিনীগুলোকে তাড়িয়ে দিয়ে আফগানিস্তানে ইসলামিক শরিয়াভিত্তিক শাসন ফিরিয়ে আনতে চায়, সেই লক্ষ্যে তারা অবিরাম লড়াই করে যাচ্ছে।