উত্তর কোরিয়ার ছোঁড়া একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সাগরে পড়ার আগে জাপানের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালের দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া।
তবে জাপানের কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করে দেয়ার কোনো চেষ্টা করেনি— এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি অবতরণের আগে তিন টুকরা হয়ে যায়।
ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এ ঘটনাকে 'নজিরবিহীন হুমকি' বলে বর্ণনা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে একটা হুমকি থাকলেও গত আট বছরে প্রথমবারের মতো জাপানের ওপর দিয়ে উড়ে গেল এটি।
এর আগে গত শুক্র ও শনিবার তিনটি স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া।
জাপানের আকাশসীমা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র অতিক্রমের এ ঘটনায় দেশটির উত্তরাঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানাচ্ছে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝারি পাল্লার একটি হোয়াসং-১২ মিসাইল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক সামরিক মহড়ার মধ্যেই এর পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া।
জাপানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ার আগে প্রায় ১৪ মিনিট জাপানের লোকালয়ের ওপরে ছিল।
উত্তর কোরিয়া সুনান থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সাগরে পড়ার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি তিনটি অংশে ভাগ হয়ে যায়। তার আগেই নাগরিকদের সতর্ক করে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানো হয় জাপান সরকারের পক্ষ থেকে।
জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়াশিদা সুগা টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি— এভাবে আর চুপ থাকা যায় না। আমরা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলব।
পিয়ংইয়ং আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, আমরা চাই বিশ্বনেতারা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সব ধরনের চাপ অব্যহত রাখুক।
এর আগে ১৯৯৮ ও ২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়ার ছোড়া দুটি রকেট জাপানের আকাশ সীমা অতিক্রম করে। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, সেগুলো কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল অস্ত্র হিসেবে নয়।