রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে— তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে টেলিফোনে জানতে চান সু চির কাছে।
এসময় সু চি মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় ব্যাপক তথ্য বিকৃতির অভিযোগ আনেন।
তিনি জানান, তার সরকার রাখাইনের জনগণকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই মিয়ানমার সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সফরেও রোহিঙ্গা বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইস্যুতে আগামীকাল ঢাকা আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু।
মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এক লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নেত্রী এবং দেশের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সমালোচনায় সরব হয়েছে গোটা বিশ্ব।
সর্বশেষ মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অথবা বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সু চির পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অনেকেও সু চির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার মিয়ানমার সফরে যান ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। এই বিষয়ে কি করা যায় তা নিয়ে তিনি ঢাকা মঙ্গলবার এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন।
আগামীকাল-বৃহস্পতিবার ঢাকা আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে মালদ্বীপ মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে এতখানি চাপের পরও চুপচাপই ছিলেন সু চি। এই প্রথমবারের মতো তিনি মুখ খুললেন।
মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এ ইস্যুতে টেলিফোনে কথা বলেন সু চির সঙ্গে। এরদোয়ান নিরাপরাধ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে সুচিকে আহবান জানান।
এর প্রতিক্রিয়ায় সু চি তাকে জানান, রাখাইনের জনগণকে তার সরকার নিরাপত্তা দিয়েই আসছে।
রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা খবরে তথ্য বিকৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সু চি।
এদিকে, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে মিয়ানমার সফরে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সফরেও রোহিঙ্গা বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের নির্যাতনের মুখে ভারতে রাজধানী দিল্লিসহ দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছে চল্লিশ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।