মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সেখানে মানবাধিকারকর্মীদের প্রবেশে অনুমতি দিতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি রাখাইনে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের সহিংসতারও নিন্দা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এদিকে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সরব হতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু। আর রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চাইলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই।
জাতিগত শুদ্ধাভিযানের লক্ষ্য নিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সম্প্রতি সেনা মোতায়েন শুরু হয়। এর কয়েক দিনের মাথায় গত ২৪ আগস্ট ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের সমন্বিত হামলার পর থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার হয়। রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে চলতে থাকে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন। পুড়িয়ে দেয়া হয় শত শত ঘরবাড়ি।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর এ সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় উঠে। দাবি ওঠে নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার। তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, গণহারে রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া, নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বেসামরিক লোকজনের সহিংসতাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় রাখাইনে বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে।
রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য মানবাধিকার কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দিতেও মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সরব হতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে সুচিকে খোলা চিঠি দিয়েছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী ডেসমন্ড টুটু।
এতে তিনি বলেন, নিরবতার মধ্য দিয়ে সুচি যদি দেশের উচ্চপদ লাভের পরিকল্পনা করে থাকেন, এজন্য তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
রোহিঙ্গা সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আরেক নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বলেন, লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় সব দেশের সবর হওয়া উচিত।