রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ কর্মীদের ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকার।
তবে, নিরাপত্তা বিবেচনায় সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাউ হতাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেন।
দেশটির সমাজকল্যান, ত্রাণ ও পুনুর্বাসন মন্ত্রী উইন মিয়াত আইয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত সংঘাতময় এলাকায় বিদেশি কোনো ত্রাণ সংস্থা প্রবেশ করেনি। তবে এ ধরণের কোনো সংস্থাকে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, এসব সরকার পরিচালিত কার্যক্রম। সংঘাতময় এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-এআরএসএ এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও মিয়ানমার সরকার তা প্রত্যাখান করে বলেছে, তারা জঙ্গিদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপে যাবে না।
কয়েকটি ত্রাণ সংস্থা জঙ্গিদের খাবার সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ মিয়ানমার সরকারের।
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ভীড়ে জনাকীর্ণ কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকা। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায় ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার রোহিঙ্গা।
গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মোট ২৩টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।
এ পর্যন্ত ১১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে: তার মধ্যে শিশু ৫৬ জন, নারী ২৯ জন ও পুরুষ ২৩ জন।
জানাগেছে, মিয়ানমা রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর দমপ-পীড়নের শিকার হয়ে কক্সবাজার, টেকনাফ ও বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসেব মতে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি খাদ্য ও পানীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।
এছাড়া, চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অনেক রোহিঙ্গা।
গত মাসের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর সেনা অভিযানের প্রেক্ষাপটে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নেমেছে।