আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর অবরোধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
এক বিবৃতিতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন রুখতে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মিয়ানমারের শাস্তি নিশ্চিত করতেও বলেছে সংস্থাটি।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের নেতা অং সান সুচিকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক শুভেচ্ছা দূত, হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।
গত তিন সপ্তাহে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের হাতে অন্তত ১ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান এ ঘটনাকে 'জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত' আখ্যা দিয়েছেন।
মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রশ্ন রেখেছেন, এক তৃতীয়াংশ মানুষ দেশ থেকে উচ্ছেদ হলে তাকে 'জাতিগত নিধন' ছাড়া আর কী বলা যায়। এবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব এনেছে।
রোববার এইচআরডব্লিউ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং এই ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উচিত মিয়ানমারের ওপর কঠোর অবরোধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাতে তাদের জাতিগত নিধন সংক্রান্ত প্রচারণা ও কার্যক্রম বন্ধ করা যায়। সেইসঙ্গে মিয়ানমারের সেনা পরিচালিত ব্যবসাগুলোর আর্থিক লেনদেনও বন্ধ করার পরামর্শ সংগঠনটির।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মিয়ানমারের শাস্তি নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
রাখাইনে চলমান এই রোহিঙ্গা সংকটের নিন্দা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক শুভেচ্ছা দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের নেতা অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোববার জার্মান একটি সাপ্তাহিকে এ হলিউড তারকা আরো জানান, হত্যা-নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি শরণার্থীদের রাখাইন রাজ্যে ফিরে আসার সুযোগ দিতে হবে।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় হতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্টলেডিদের কাছে চিঠি লিখেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের স্ত্রী ফার্স্টলেডি এমিনে এরদোয়ান।
চিঠিতে তিনি তার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
চলমান মানবিক সঙ্কটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের চোখ-কান বন্ধ রেখেছে এটা খুবই লজ্জার বিষয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন তুর্কি ফাস্টলেডি।