রোহিঙ্গা ইস্যুতে ক্রমেই মিয়ানমার সরকারের উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের বক্তব্যে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বক্তব্যে মিয়ানমার সরকারের সমালোচনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্টসহ বিশ্ব নেতারা।
এদিকে, মিয়ানমারকে সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য আর রোহিঙ্গাদের জন্য ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব সরকার।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র প্রধানের বক্তব্যে উঠে আসে রোহিঙ্গা ইস্যু। রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
বক্তব্যে রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
এ সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি তার ভাষণে বলেন, রাখাইনে জাতিগত নিধনের ঘটনায় স্তম্ভিত বিশ্ব সেইসঙ্গে ক্ষমতা নয় মানবতার জয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে মিয়ানমারের উপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদু বুহারি।
এক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিরব থাকলে চলবে না— অবিলম্বে রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
এর আগে সাধারণ পরিষদে উদ্বোধনী ভাষণে রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সেইসঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে। সেইসঙ্গে এ সংকট মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান দেশটির সরকারকে।