রাখাইন প্রদেশে একটি গণকবর সন্ধান পাওয়া গেছে— যেখানে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মৃতদেহ রয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনী বলছে, রোহিঙ্গা মুসলমান জঙ্গিরা এইসব হিন্দুদেরকে হত্যা করেছে।
রোববার পাওয়া এসব মরদেহের মধ্যে ২০টি নারীদের এবং বাকী ৮জন পুরুষ শিশুর বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
দেশটির সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এক শরণার্থী মিয়ানমারের হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের পর রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রাম ইয়ে বাও কিয়ার কাছে তল্লাশি চালানো হয়।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ওই শরণার্থী জানান, ২৫ আগস্ট এআরএসএ-র প্রায় ৩০০ জঙ্গি প্রায় ১০০ জনকে ধরে গ্রামের বাইরে নিয়ে হত্যা করে।
তবে এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)।
তাদের দাবি, তারা বেসামরিকদের ওপর কোনো হামলা চালায় না এবং কোনো হিন্দুকেও হত্যাও করেনি।
রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে সাংবাদিকসহ মানবাধিকার কর্মী ও ত্রাণকর্মীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত তাই মিয়ানমার সরকারের দাবি করা ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাখাইনে গত পঁচিশে আগস্ট থেকে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত চার লাখ ত্রিশ হাজারের বেশী রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বিবৃতি থেকে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের একটি গ্রাম থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি গণকবর খুঁড়ে মোট আটাশটি মৃতদেহ বের করে এনেছে, এদের সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী, বেশীরভাগই নারী।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বিবিসিকে বলেন, নির্মম হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয়ার কারণে রোহিঙ্গারা আতঙ্ক আর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। রাখাইনে চলমান সহিংসতাকে 'জাতিগত নিধন' বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমারের সরকার।
সহিংসতা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত চার লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।