রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আজ-বৃহস্পতিবার উন্মুক্ত আলোচনা হতে যাচ্ছে— এতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ব্রিফ করবেন বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
ওই বৈঠক থেকে রাখাইনে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ করে সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে পরিষদের কাছে জোরালো পদক্ষেপ আশা করছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষে একটি বিবৃতি প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা গেছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সমাধানে উন্মুখ বিশ্ববাসীর নজর এখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দিকে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তৃতীয়বারের মতো বৈঠকে বসছে। ২০০৫ সালের পর রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে এ প্রথমবার পূর্বনির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে এলো।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, মিসর, কাজাখস্তান ও সেনেগালের অনুরোধে এ বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন নিজ সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের জন্য পরিষদের কাছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আশা করছে বাংলাদেশ।
উন্মুক্ত আলোচনার পর ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।
অধিবেশন শেষে একটা বিবৃতি প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের কাজের প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবৃতি হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল পদক্ষেপ।
আগামী ২ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ থার্ড কমিটির বৈঠকেও রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসির পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরবে সৌদি আরব।
তবে এখানে যতোই আলোচনা হোক শেষ পর্যন্ত তা নৈতিক চাপেই সীমিত থাকবে বলে মনে করেন কূটনীতিকরা।
এদিকে, জেনেভায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বাংলাদেশ সফর শেষে বুধবার জেনেভায় ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট সমাধানে এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।