মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সংঘাত-সহিংসতা নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের কিছুই নেই বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের শরণঅর্থী বিষয়ক প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি।
বুধবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গারা তার নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
এদিকে, রাখাইনে সফর করে আসা ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবে যথাসম্ভব ব্যবস্থা নিতে অং সান সুচির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঘিরে তৈরি সঙ্কটের দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি।
তবে এই রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে দেয়া হবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন বলে মনে করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সফর থেকে জেনেভায় ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রান্ডি বলেন, রোহিঙ্গাদের কিছুই নেই। প্রাণ বাঁচাতে সবকিছু ছেড়ে তারা পালিয়ে এসেছে। তাদের আবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়া কঠিন বলে মন্তব্য তার।
শরণার্থী বিষয় হাইকমিশনার আরো বলেন, এটা স্পষ্ট যে রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে এবং তাদেরকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়া হলে পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এখনো মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিধনে সেনা অভিযান চলছে, প্রতিদিনই জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি। নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
গতমাসের ২৪ আগস্ট পুলিশ চৌকি ও সেনা ক্যাম্পে বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের হামলার নাম করে ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা।