রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের নির্ধারিত একটি প্রতিনিধি দলের মিয়ানমার সফর দেশটির সরকার হঠাৎ করে বাতিল করে দিয়েছে জানিয়েছেন ইয়াংগুনে বিশ্বসংস্থাটির মুখপাত্র স্তানিস্লাভ সেলিং।
বিবিসি বলেছে, সফর বাতিলের কোনো কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দেখায়নি বলে জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে বলে জাতিসংঘের দাবি তবে মিয়ানমার সরকার তা অস্বীকার করে আসছে।
রাখাইনে গত মাসে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর ওই রাজ্য থেকে জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীদের বের করে দেয়া হয় সেখানে সাংবাদিকদেরও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
এদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আজ-বৃহস্পতিবার উন্মুক্ত আলোচনা হতে যাচ্ছে— এতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ব্রিফ করবেন বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
ওই বৈঠক থেকে রাখাইনে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ করে সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে পরিষদের কাছে জোরালো পদক্ষেপ আশা করছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষে একটি বিবৃতি প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা গেছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সমাধানে উন্মুখ বিশ্ববাসীর নজর এখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দিকে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তৃতীয়বারের মতো বৈঠকে বসছে। ২০০৫ সালের পর রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে এ প্রথমবার পূর্বনির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে এলো।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, মিসর, কাজাখস্তান ও সেনেগালের অনুরোধে এ বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এখনো মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিধনে সেনা অভিযান চলছে, প্রতিদিনই জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি। নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
গতমাসের ২৪ আগস্ট পুলিশ চৌকি ও সেনা ক্যাম্পে বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের হামলার নাম করে ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা।