মিয়ানমারে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রেনাটা লক ডেসালিয়েন রোহিঙ্গা সংকটে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারই সাবেক সহকর্মীরা।
সাবেক কয়েকজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা এবং ত্রাণ কর্মী বলেছেন, তিনি জাতিসংঘের অফিসে রোহিঙ্গা নিয়ে কোনো কথা বলতে পর্যন্ত বারণ করেছিলেন।
এমনকি ডেসালিয়েন মানবাধিকার কর্মীদের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত রাখতে চেয়েছেন বলে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমারে জাতিসংঘ দপ্তর।
রাখাইনে সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সঙ্কটে সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এখন সবার সামনের কাতারে রয়েছে।
বিশ্বসংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা কড়া ভাষায় মিয়ানমারের ভূমিকার সমালোচনা করছেন, রাখাইনে সেনা অভিযানকে তারা বর্ণনা করছেন জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে।
কিন্তু এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিবিসি বলছে, মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনেটা লক-ডেসালিয়েন রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকারের বিষয়টি দেশটির সরকারের সামনে আনার ক্ষেত্রে বারবার বাধা দিয়েছেন।
জাতিসংঘের ভেতরের সূত্র এবং বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, ডেসালিয়েন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মানবাধিকার কর্মীদের যাতায়াত আটকাতে চেয়েছিলেন।
তিনি প্রকাশ্যে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলোচনা বন্ধ করার চেষ্টা করা ছাড়াও তাদেরকে জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যেসব কর্মকর্তা, তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার চেষ্টা করেন।
রাখাইনে পরিস্থিতি কোনো দিকে যাচ্ছে তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের অফিসের প্রধান কর্মকর্তা ক্যারোলিন ভ্যান্ডেনাবিল। আর ২০১৪ সাল থেকে সেখানে আবাসিক সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন ডেসালিয়েন।
বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কোনো বৈঠকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করা এক প্রকার অসম্ভব ছিল।
ভ্যান্ডেনাবিলও জানিয়েছেন, এক পর্যায়ে বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় রোহিঙ্গা সংকট বা তাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘ বৈঠকে কোনো কথা বলা যাবে না।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টা নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করতে যাওয়ার কারণে তাকে চিহ্নিত করা হয় ঝামেলাবাজ হিসেবে। দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাকে অকেজো করে রাখা হয়। এমনকি জাতিসংঘের যেসব কর্মকর্তা সে সময় মিয়ানমার সফরে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে কথা বলা বারণ ছিল।
অবশ্য রেনাটা লক ডেসালিয়েন এসব বিষয়ে বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন।
জাতিসংঘ মিয়ানমারে ভিন্ন কোনো কৌশল নিলে এই বিপর্যয় এড়ানো যেতো কিনা? বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্ডেনাবিল মনে করেন, অন্তত তিনি যেসব আগাম সতর্কবাণীর কথা বলেছিলেন, তা আমলে নিলে হয়তো আগে থেকে বোঝা যেত- রাখাইনে কী ঘটতে যাচ্ছে।