রোহিঙ্গা নিপীড়নের অপরাধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইউরোপের কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের কথায় মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি- এছাড়া রাখাইনে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর ব্যাপারেও আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের ফলে মাসখানেকের মধ্যে সোয়া ৫ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
তারা বলছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনা সদস্যরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে, ঘটছে গণধর্ষণের ঘটনাও। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।
এই অবস্থায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জেনারেলদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন, ইয়াঙ্গুন ও ইউরোপভিত্তিক ডজনের ওপর কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তার কথায় এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে ভাবনার কথা উঠে এসেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস এজন্য আরো কিছুদিন সময় নিতে পারে। রাখাইনে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বাড়ানোরও আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী ১৬ অক্টোবর মিয়ানমারের বিষয় নিয়ে বসবেন। তবে এই বৈঠকেই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ আসবে না বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।
নেদারল্যান্ডসের উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী উলা তুয়ারেস বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর আরো চাপ প্রয়োগের জন্য কোপেনহেগেন সংকটটি আলোচ্য সূচিতে আনার চেষ্টা করছে। অবস্থার উন্নতি না হলে মিয়ানমারের উন্নয়নে ইউরোপীয় কমিশন কোনো বিনিয়োগ করবে না বলে ব্রাসেলসভিত্তিক এক ইইউ কূটনীতিক জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং হলাইংসহ বেশ কয়েকজন জেনারেল এবং রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগে থাকা রাখাইন বৌদ্ধ মিলিশিয়া নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইউরোপ, জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কারণে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে সাবধানে এগুচ্ছে।
ওয়াশিংটনে নিয়োজিত মার্কিন আরেক কর্মকর্তা বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও নভেম্বরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এশিয়া সফর নাগাদ মিয়ানমার নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনায় পৌঁছানোর আশা করছে ওয়াশিংটন।