মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামের ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেছেন বাংলাদেশসহ ৫ দেশের রাষ্ট্রদূত।
তারা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উল্টো দিকে জড়ো হওয়া কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গার কাছ থেকে শোনেন সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কাহিনী।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও লাওসের রাষ্ট্রদূতরা রাখাইন পরিদর্শনে যান।
এদিকে, ইয়াঙ্গুনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগে বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও মুসলমানদের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমণে আন্তঃধর্মীয় প্রার্থনা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একদিকে, সম্প্রীতির প্রার্থনা অন্যদিকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন। বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে প্রথমবারের মতো সব ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে সমাবেশ হয়েছে মিয়ানমারে।
মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনের একটি স্টেডিয়ামে প্রায় ৩০ হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষু, হিন্দু, খ্রিস্টান ও মুসলমান আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান জানাতে জড়ো হন। এই সমাবেশ বিরোধ নিরসনে সুচি সরকারের প্রথম পদক্ষেপ।
সমাবেশে ইয়াঙ্গুনের প্রধান বৌদ্ধভিক্ষু ইদ্ধিবালা মুসলিম ধর্মীয় নেতা হাফিজ মুফতি আলীর সঙ্গে করমর্দন করেন।
বৌদ্ধভিক্ষু ইদ্ধিবালা একে অপরকে হত্যা, নির্যাতন, ধ্বংস বা বিনাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
আর দেশের নাগরিকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত বলে মনে করেন মুফতি আলী।
আর জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সোমবারই নতুন করে সীমান্ত দিয়ে ১১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে তারা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসছে বলে এসব রোহিঙ্গারা জানিয়েছে।
এদিকে, মিয়ানমারের ইউনিয়নমন্ত্রী টিন্ট সোয়ের আমন্ত্রণে রাখাইন সফর করেন বাংলাদেশ, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও লাওসের রাষ্ট্রদূত।
তারা রাখাইনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পোড়া ঘরবাড়িসহ ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
এছাড়া সেইন্ট মার্টিন দ্বীপের উল্টো দিকে জড়ো হওয়া কিছু রোহিঙ্গার সঙ্গেও তাদের কথা হয়।
রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রদূতদের জানিয়েছেন, মিয়ানমারে থাকলে তাদের হত্যা করা হবে তাই তারা বাংলাদেশে আশ্রয় চায়।
তারা আর কখনো মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না বলেও জানান।