চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতাদর্শকে নিজেদের গঠনতন্ত্রে স্থান দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে দেশটিতে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা।
এর মধ্য দিয়ে আধুনিক চীনের রূপকার মাও সেতুংয়ের কাতারে উঠে এসেছেন দেশটির শি জিনপিং।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো, কমিউনিস্ট পার্টির চলমান কংগ্রেসের শেষ পর্যায়ে মঙ্গলবার ‘শি জিনপিংয়ের চিন্তা’ পার্টির গঠনতন্ত্রে স্থান দেয়া হবে কি না তা নিয়ে ভোট হয়। সেখানে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রস্তাবটি পাস হয়।
গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী বেইজিংয়ে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক বৈঠকে কমিউনিস্ট পার্টির দুই হাজারের বেশি প্রতিনিধি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। কংগ্রেসের শুরুতে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিন ঘণ্টা ভাষণ দেন শি। ওই ভাষণে প্রথমবারের মতো ‘নতুন যুগে চীনের সমাজতন্ত্র’ নামের নিজের মতাদর্শ তুলে ধরেন তিনি।
এরপর থেকে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বারবার এই মতাদর্শের কথা তুলে ধরতে থাকে। ওই মতাদর্শকে বর্ণনা করা হচ্ছে ‘শি জিনপিংয়ের চিন্তা’ হিসেবে।
বিবিসি বলছে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে শি নিজের প্রভাব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন বলেই এ ঘটনায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিবিসি চায়নার সম্পাদক কারি গ্রেসি বলেন, পার্টির গঠনতন্ত্রে ‘শি জিনপিংয়ের চিন্তা’ যুক্ত করার কারণে এখন প্রতিদ্বন্দ্বীরা কমিউনিস্ট পার্টির শাসন হুমকির মুখে ফেলা ছাড়া আর কোনোভাবে শিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন না।
এর আগেও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা তাদের মতাদর্শ পার্টির গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু একমাত্র মাও ছাড়া কারও মতাদর্শকেই তাদের ‘চিন্তা’ হিসেবে আলাদাভাবে বর্ণনা করা হয়নি। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসা শি জিনপিং এর মতাদর্শ ও তত্ত্ব যুক্ত করা হয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির গঠনতন্ত্রে।