স্পেন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বহিস্কৃত কাতালান নেতা কার্লেস পুজদেমন।
পুজদেমন নতুন নির্বাচনে অংশ নিলে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানায় স্প্যানিশ সরকার।
এদিকে, কাতালোনিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক বিরোধিতার আহ্বান জানিয়েছেন পুজদেমন। সেইসঙ্গে কাতালোনিয়ার স্বায়ত্ত্বশাসন কেড়ে নিতে স্পেনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে মুক্ত দেশ গড়তে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
কিন্তু তার পরও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে বলেছেন স্পেনের এক কর্মকর্তা।
এদিকে পুজদেমন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ডাক দিয়েছেন গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার। মাদ্রিদে কাতালান স্বাধীনতার বিপক্ষে সমাবেশ করেছে স্প্যানিশ জনগণ।
কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাকামী নেতা পুজদেমনকে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত নির্বাচনে অংশ নেবার সুযোগ দিতে চায় স্পেন সরকার।
যদিও স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার দায়ে তাকে আঞ্চলিক সরকার থেকে সরিয়ে দিয়ে কাতালোনিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে মাদ্রিদ। ক্ষমতায় আনা হয়েছে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী সোরাইয়া সান্তামারিয়াকে।
আগে থেকে ধারণ করা পুজদেমন এক টেলিভিশন ভাষণে দেশটির স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।
ভাষণটি কাতালান টিভিতে শনিবার বিকেলে প্রচার করা হয়। গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ডাক দেন সেখানে নেতা পুজদেমন।
এর আগেই শুক্রবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যারিয়ানো রাখয় বরখাস্ত করেন পুজদেমনকে। ঘোষণা দেন ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন নির্বাচনের। কাতালান পুলিশ প্রধানকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেয়া হয় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
শনিবারের টেলিভিশন ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বিরোধীতা করে কার্লোস পুজদেমন বলেন যে, তারা কাতালানবাসীর স্বাধীন হবার ইচ্ছার ওপর ভরসা করে এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সহিংসতা, অসম্মান ছাড়াই বিজয়ী হবার আশা জানান তিনি।
এদিকে, মাদ্রিদ সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের নির্বাচনে পুজদেমনকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলা হয়েছে। যদিও এও বলা হয়েছে যে বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্যে তার বিচার হবে।
শনিবার মাদ্রিদে বিচ্ছিন্নতাবাদের বিপক্ষে সংবিধান ঠিক রাখার দাবিতে বিশাল সমাবেশে অংশ নেন শত শত স্প্যানিশ।
গত শুক্রবার কাতালোনিয়ায় স্বাধীনতা ঘোষণা করার পক্ষে আঞ্চলিক পার্লামেন্টের রায় আসে। এরপরই স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সংসদ ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দেন এবং পুজদেমনকে বরখাস্ত করেন।