ভিয়েতনামে অ্যাপেক সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে গিয়ে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি'র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনে তারা উদ্বেগের কথা জানান। কীভাবে কানাডা এই সংকট সমাধানে সাহায্য করতে পারে সে ব্যাপারে ট্রুডো তার আগ্রহের কথা জানান।
এর জবাবে সুচি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান।
এদিকে, শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমার সরকারকে রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের আইনি মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
ভিয়েতনামের দা নাংয়ে অ্যাপেক সম্মেলন শুরুর আগে আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির সঙ্গে। ৪৫ মিনিট ধরে বৈঠকে ট্রুডো এবং তার মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত বব রে রোহিঙ্গা ইস্যু এবং এ ব্যাপারে সুচির নিশ্চুপ থাকার বিষয়ে কথা বলেন।
ট্রুডো রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংকট নিরসনে সু চিকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
সেইসঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে তার সরকার সহায়তা দিতে আগ্রহী বলেও মিয়ানমার নেত্রীকে জানান।
বৈঠকে সু চি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
বৈঠক শেষে মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত বব রে সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বৈঠকে তাদের মধ্যে সুন্দরভাবে মত বিনিময় হয়েছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের ব্যাপারে ট্রুডো তার উদ্বেগের কথা সুচিকে জানিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরে কী পরিস্থিতিতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে তা তুলে ধরেন। কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মিয়ানমার নেত্রীর এ কথাগুলো শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বব রে।
রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন শুরুর পর থেকেই জাস্টিন ট্রুডো মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সোচ্চার। তবে তিনি সুচির সাম্মানিক কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিল করবেন কি না সে ব্যাপারে এক আবেদনের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
এদিকে, শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেছেন, মিয়ানমার সরকারকে রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের আইনি মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
রাখাইন পরিস্থিতিকে ভয়াবহ ট্রাজেডি অভিহিত করে তিনি আরো বলেন, যে মাত্রায় সহিংসতা ও নৃশংসতা রোহিঙ্গাদের ওপর হয়েছে সে ব্যাপারে বিশ্ববাসী নিশ্চুপ থাকতে পারে না। উত্তর রাখাইনে অবাধে মানবিক ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিতের ওপরও জোর দেন তিনি।