রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং।
বৈঠকে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, রাখাইন ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের মিয়ানমারের পক্ষে দাঁড়ানোসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ফেইসবুকে পোস্ট করা বিবৃতিতে লিখেছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার চীন সফরে যান মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং— এ কয় দিন মুখ্যত চীনের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
গত আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হলে তখন থেকেই মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে আসছে চীন। এই সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উঠলে তা আটকে দেয় চীন।
মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনই দেশটির সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী— দেশটিতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে চীনের।
রাখাইনে দমন-পীড়নের মুখে গত তিন মাসে সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার প্রেক্ষাপটে এই সংকটের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিষয়ে সোচ্চার রয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন-নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনের’ চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।
এই প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ঢাকা সফরে এসে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এই সমস্যা সমাধানের কথা বলেন।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা পরিস্থিতি জটিল করবে বলে তারা মনে করেন।
এরপর আসেম সম্মেলনে অংশ নিতে মিয়ানমার যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তার এই সফরেই বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে একটি সম্মতিপত্র সই হয়েছে।
তবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরার মত পরিস্থিতি রাখাইনের উত্তরাংশে এখনও হয়নি—বলে মত দিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার পরদিন ইউএনএইচসিআরের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই মুহূর্তে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তাদের ফেরার এবং বসবাসের জন্য নিরাপদ নয়। এখনও অনেক মানুষ পালাচ্ছে, বহু মানুষ সহিংসতা আর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারাত্মক মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়েছে। অনেকে নিজের চোখের সামনে বন্ধু স্বজনদের খুন হতে দেখেছে। বেশিরভাগই তাদের সহায় সম্বল হারিয়েছে, তাদের বাড়িঘর, গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বলেছে, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায়ে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্টতা ও নজরদারি থাকতে হবে।
এইচআরডব্লিউর শরণার্থী অধিকার বিভাগের পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেন, অস্ত্র হাতে মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গাদের তাদের গ্রামে স্বাগত জানাবে- এটি ‘হাস্যকর’ একটি ভাবনা।