ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে‘ মধ্যপ্রাচ্যের নয়া হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান।
আঞ্চলিক সম্পর্কের টানাপোডেনের মধ্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
গত ৪ নভেম্বর ইয়েমেন থেকে নিক্ষেপিত একটি ক্ষেপনাস্ত্র রিয়াদ বিমান বন্দরের কাছাকাছি এলে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী এটাকে প্রতিহত করে। এরফলে সৌদি আরব এবং প্রতিপক্ষ ইরান তিক্ত বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়।
তেহরান ফেরত হুদি বিদ্রোহিরা এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস এ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে যুবরাজ বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘মধ্যপ্রাচ্যের নয়া হিটলার।’
বৈরী দেশ দুটির মধ্য ক্রমবর্ধমান বাগ্যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় যুবরাজ মোহাম্মদ এ উত্তেজনাকর মন্তব্য করেছেন।
সিরিয়া, ইয়েমেনসহ এঅঞ্চলে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে সমর্থন জুগিয়ে আসছে সুন্নি মুসলিম-অধ্যুষিত সৌদি আরব ও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরান।
সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিতও দেন যে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীন ইরান যেভাবে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে, তা প্রতিহত করতে হবে।
যুবরাজকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি বলেছে, আমরা ইউরোপ থেকে এ শিক্ষাই পেয়েছি, আত্মতুষ্টি কাজে আসে না। আমরা ইরানে ‘নতুন হিটলার’ দেখতে চাই না; যাতে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত ঘটনাবলির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সম্প্রতি সৌদি মিত্র সাদ আল-হারিরির প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা ও এরজন্য ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত করে মন্তব্য করার পর সৌদি-ইরান সম্পর্কের তিক্ততা আরও বেড়ে যায়। অবশ্য অতিসম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে সাদ হারিরি তার পদত্যাগের বিষয়টি স্থগিত করেন।
সাদ হারিরি তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রভাব ও তাঁর জীবনাশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে হিজবুল্লাহ ওই অভিযোগ অস্বীকার করে।