মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক মতামত উপেক্ষা করেই অবশেষে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকৃতি দেয়ার পর ফুঁসে উঠেছে বিশ্ব।
বুধবার ওয়াশিংটন সময় দুপুরে এ ঘোষণা দেন তিনি।–এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিতেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় তবে স্থানান্তরের দিনক্ষণ বলেননি।
ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও ফুঁসে উঠেছে ফিলিস্তিন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্ব। হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি—এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।
ফিলিস্তিনের হামাস বলেছে, ট্রাম্পের এ স্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য 'মৃত্যুর চুম্বন' ছাড়া কিছুই নয়।
সব মিলিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুললেন বলেই অভিমত বিশ্নেষকদের। খবর বিবিসি, সিএনএন ও এএফপির।
তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে হোয়াইট হাউজে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এটাই সময় বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই দশকেরও বেশি সময়ের ছাড় দিয়েও আমরা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি।
জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করতে এতদিন বিশেষ আদেশে পররাষ্ট্র দপ্তরকে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা। মঙ্গলবারও ট্রাম্প ওই আদেশে সই না করায় তিনি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ উল্টে এই ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিচ্ছেন বলেও জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই ‘দুই রাষ্ট্র’ সমাধান চাইলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সায় থাকবে।
১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানীর স্বীকৃতি দিল।
মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে চায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলে তা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘মরণ ছোবল’ হবে বলে সতর্ক করেছিলেন ফিলিস্তিনের নেতারা।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে জেরুজালেমে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর জিম্মাদার জর্ডান এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তার পরিণতি হবে ‘ভয়াবহ’।
এই সিদ্ধান্ত ‘চরম সীমা’ অতিক্রম করবে বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান। সৌদি আরবও এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।