যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ট্রাম্পের জেরুসালেম স্বীকৃতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র।
জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি বাতিল করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের জরুরী অধিবেশনের ভোট গ্রহণ হয়। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ১২৮টি ও বিপক্ষে ৯টি দেশ ভোট দিয়েছে। ভোটদানে বিরত ছিল ৩৫টি দেশ।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘকে মিথ্যার বেসাতি বলেও আখ্যায়িত করেন।
গত ৬ ডিসেম্বর জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন দূতাবাস ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুসালেমে নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশ।
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের জেরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক বসে। সেখানে সদস্য দেশগুলো ট্রাম্পের সমালোচনা করে। জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি বাতিলে একটি প্রস্তাব আনা হয়।
গত সোমবার এই প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হয়। এতে সদস্য সব দেশ সমর্থন জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধীতায় ভেস্তে যায় প্রস্তাবটি। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি এই প্রস্তাব উত্থাপন নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন নিরাপত্তা পরিষদে। সেইসঙ্গে যারা এই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে তাদের যুক্তরাষ্ট্র মনে রাখবে বলেও হুশিয়ারি দেন।
এ হুশিয়ারির মধ্যেই আরব ও মুসলিম দেশগুলোর অনুরোধে নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিরল এক অধিবেশন বসে।
এ অধিবেশনে ট্রাম্পের জেরুসালেম স্বীকৃতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য দেশ। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ১২৮টি ও বিপক্ষে ৯টি দেশ ভোট দিয়েছে। ভোটদানে বিরত ছিল ৩৫টি দেশ।
তুরস্ক ও ইয়েমেন উত্থাপিত এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের চার স্থায়ী সদস্য চীন, ফ্রান্স,রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য।
বিপক্ষে ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ছিল গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, পালাউ ও টোগো। ভোটদানে বিরত রয়েছে কানাডা ও মেক্সিকো।
এদিকে, ভোটাভুটির আগে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যারা কোটি কোটি ডলার সাহায্য নিচ্ছে তারাই দেশটির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এসব দেশগুলোকে অর্থ সহায়তা দেয়া বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।