উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জেরে দেশটির ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
শুক্রবারের ভোটাভুটিতে পাস হওয়া প্রস্তাবনায় উত্তর কোরিয়ায় তেল সরবরাহ ৯০ শতাংশ কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে কাজ করা সব উত্তর কোরিয় নাগরিককে প্রস্তাবনার আওতায় ১২ মাসের মধ্যে দেশে ফেরা কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া, উত্তর কোরিয়ার বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির মত পন্য রপ্তানি নিষিদ্ধের পদক্ষেপও প্রস্তাবনায় নেওয়া হয়েছে।
ভোটে প্রস্তাবনাটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়—এ প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার চীনও পক্ষে ভোট দিয়েছে।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) উত্তর কোরিয়ার ওপর অনেক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।
ওয়াশিংটন ২০০৮ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে।
দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তিবিশেষও এ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে। জব্দ হয়েছে তাদের বহু সম্পদ, বন্ধ হয়েছে বহু পণ্য ও সেবা সরবরাহও।
বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর চাপ উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকায় এ বছর উত্তেজনা বেড়েছে।
গত ২৯ নভেম্বরে উত্তর কোরিয়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে এবং এ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমত উত্তর কোরিয়া সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগুবে বলে জানিয়ে এসেছে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই দেশটির ওপর এ নতুন দফা নিষেধাজ্ঞার দেয়া হলো।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে স্পষ্টত এ বার্তাই দেওয়া হল যে, তারা এরপরও বেপরোয়া থাকলে আরও শাস্তি পাবে এবং আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।