মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোববার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। সেইসঙ্গে মিয়ানমার বিষয়ক একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে ওআইসিভূক্ত দেশগুলোর উত্থাপিত প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে চীন ও রাশিয়াসহ ১০টি দেশ।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরুর পর এ পর্যন্ত সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাদের এ নির্যাতনে মানবাধিকার সংগঠনগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত খুঁজে পেয়েছে।
আর জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সূচিও রোহিঙ্গাদের রক্ষায় পক্ষে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা নেননি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সুচি।
রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ করতে রোববার মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসি'র আনা এ প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে ১২২টি ভোট। আর বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ। এছাড়া ২৪টি সদস্য দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
মিয়ানমারের পাশাপাশি প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে চীন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, সিরিয়া এবং জিম্বাবুয়ে।
পাস হওয়া এ প্রস্তাবে মিয়ানমার বিষয়ক একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
এছাড়া নিজ ভূমিতে সকল রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গাদেরকে পূর্ণ নাগরিকত্বের অধিকার প্রদানের মতো বিষয়গুলোও ওআইসির প্রস্তাবটিতে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।