জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন –এনআরসি তালিকার খসড়া প্রকাশ করেছে ভারতের আসাম সরকার।
প্রকাশিত তালিকায় মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রথমপর্যায়ের বৈধ তালিকায় নেই প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ বাসিন্দার নাম।
বৈধ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে এখনও স্বীকৃতি মেলেনি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ বাসিন্দার।
রোববার মধ্যরাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল সাইলেশ ওই খসড়া তালিকা প্রকাশ করেন।
এসময় তিনি বলেন, যাদের এখন পর্যন্ত যাচাই করা হয়েছে তাদের নিয়ে তৈরি এ খসড়া তালিকা।
বাকিদের নাম বিভিন্নভাবে যাচাই করা হচ্ছে— যাচাই-বাছাই শেষ হলেই আরেকটি খসড়া প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
পরবর্তী খসড়া তালিকা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানান তিনি।
তবে পুরো প্রক্রিয়া ২০১৮ সালের মধ্যেই শেষ হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, প্রথম তালিকা প্রকাশের পর যেকোনো সহিংসতা এড়াতে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গত বছর আসামে সরকার গঠন করে। অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় হিন্দুদের কর্মসংস্থান নষ্ট করছে দাবি করে ‘অবৈধ’ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার শপথ নেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় একটি আদমশুমারি চালানো হয়। তালিকা প্রকাশকে ঘিরে তাই আতঙ্কে ছিলেন মুসলমান অধ্যুষিত বরপেটা, দুবরি, করিমগঞ্জ, কাছাড়সহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা।
রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয় তালিকা প্রকাশকে ঘিরে। নাগরিক নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা রয়টার্সকে আগেই বলেন, আসামে বসবাসরত ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করতেই এনআরসি করা হয়েছে। এতে যাদের নাম থাকবে না, তাদের ফেরত পাঠানো হবে।
তবে তালিকা প্রকাশের পর এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা বলেন, প্রথম তালিকায় বাদ পড়াদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, ‘কারও নাম যাচাই করা একটা ক্লান্তিকর প্রক্রিয়া। প্রথম তালিকা থেকে কোন পরিবারের দুয়েকজনের নাম বাদ পড়তে পারে। বাকিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে তাই এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।'
গত ২০১৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া আবেদন প্রক্রিয়ায় আসামের ৬৮ লাখ পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে ৬ কোটি নথি বা দলিল গ্রহণ করা হয়।
হাজেলা বলেন, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বাকি নামগুলোও সেখানে স্থান পেলে অভিযোগ গ্রহণ শুরু হবে। তিনি বলেন, প্রথম তালিকাটি প্রত্যেক গ্রামের সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যাবে। এছাড়া কেউ চাইলে অনলাইনে বা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েও তথ্য জানতে পারবে। ২০০৫ সালে কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকার ও আসামের প্রভাবশালী সর্বদলীয় ছাত্র ইউনিয়নের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক শেষে সেখানকার বৈধ নাগরিকদের তালিকা করার সিদ্ধান্ত হয়। মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে আসামের অবস্থান ভারতে দ্বিতীয়।
প্রথম তালিকা প্রকাশের পর যেকোনও ধরনের সহিংসতা এড়ানোর জন্য রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আসামে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীও। আসামের ডিজিপি মুকেশ সাহাই বলেন, যেকোনও ধরনের গুজব থেকে অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।