মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এ বছরের বাজেট সিনেটে অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একবছর পূর্তির সময়টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্ম ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম বছর পূর্ণ করার দিন ২০ জানুয়ারি।
কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ফলে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ছাড়াও উদ্যান ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তাসহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কাজ আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজধানী ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের নাটকীয়তা।
বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের বাজেট বাড়ানো নিয়ে প্রস্তাবিত ওই বিল সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ প্রথম হোয়াইট হাউজ ও কংগ্রেস একই দলে নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও সরকারের বাজেট বাড়ানোর বিল অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হলো।
এজন্য ডেমক্রেটদের দায়ী করে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা তাদের বেপরোয়া দাবির নিচে বৈধ নাগরিকদের জিম্মি করে রেখেছে।
মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স আরো বলেন, তারা রাজনীতিকে সব কিছুর উপরে রাখেছে, তারা জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক ব্যবস্থা, অরক্ষিত শিশু এবং দেশকে তার সব নাগরিকের সেবা করতে সক্ষম রাখার বিষয়গুলোকে অবহেলা করেছে।
এদিকে, সিনেটে ডেমক্রেটিক নেতা চাক স্চুমার বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিলটি মেনে নিতে কংগ্রেসে তার দলকে প্রভাবিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শুক্রবার মধ্যরাতেই ছিল আগামী মাস পর্যন্ত সরকারের বাজেট বাড়ানোর বিল পাসের শেষ সময়।
কিন্তু শেষ মুহূর্তেও বিলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রিপাবলিকান ও ডেমক্রেট সিনেটরদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিক সিনেটরদের নেতা মিচ ম্যাককনেল ভোটের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে কিভাবে ভোট গ্রহণ চলছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানায় বিবিসি।
বৃহস্পতিবার রাতে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে ২৩০-১৯৭ ভোট পাস হয়।
কিন্তু সিনেটে সেটি ৫০-৪৯ ভোট পেয়েছে।
বিবিসি জানায়, পাঁচ জন রিপাবলিক সিনেটর বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন যদিও তাদের ডেমোক্রেট সিনেটর বিলে সমর্থন দিতে র্যা ঙ্ক ভেঙেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিক দল বলছে, কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধের দায় ডেমোক্র্যাটদের। আর ডেমোক্র্যাটদের জোরালো উচ্চারণ, বন্ধ হওয়ার সব দায় রিপাবলিকান ও তাদের দলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বন্ধ হওয়ার পরও রাতভর সমঝোতা নাটক চলে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দেয়া মধ্যরাতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে তিনি বৈধ নাগরিকদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে পারেন না।
এর আগে ২০১৩ সালে একবার আইন প্রণেতাদের সমঝোতা ভেঙে গেলে ১৬ দিনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসীদের সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ডাকা’র অধীনে যে আট লাখ তরুণ-তরুণী সাময়িকভাবে বৈধভাবে ওই দেশে থাকার অনুমতি পেয়েছেন তাদের ব্যাপারে কোনো স্থায়ী সমাধান অর্জিত না হলে ব্যয় বরাদ্দ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা কোনো সমর্থন না দেয়ার অবস্থানে অনড় আছে। ফলে সব সমঝোতা উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে সমঝোতা প্রস্তাব গৃহীত হলেও সিনেটে তা পাস করানো যায়নি। সেখানে অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত যেকোনো প্রস্তাব গৃহীত হতে হলে কমপক্ষে ৬০টি হ্যাঁ ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু রিপাবলিকানদের হাতে ছিল মাত্র ৫১টি ভোট। কমপক্ষে নয়জন ডেমোক্রেটিক সিনেটরের সমর্থন হলে সমঝোতা প্রস্তাবটি গৃহীত হতে পারতো।
রিপাবলিকানরা আশা করেছিলেন, ট্রাম্প সমর্থক বলে পরিচিত অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত কোনো কোনো ডেমোক্রেটিক সিনেটর দলের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। তাদের এমন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।