উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য আসামে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে ‘বাংলাদেশিদের’ অনুপ্রবেশ ঘটনা হয়েছে –এ মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত।
তিনি দাবি করেন, চীনের সহায়তায় ভারতের সঙ্গে ‘ছায়া যুদ্ধ বা প্রক্সি ওয়ারর অংশ হিসেবে এ অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দিল্লিতে ‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এবং সীমান্ত সুরক্ষা’ বিষয়ক এক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন এসব কথা বলেন।
আসামের বিভিন্ন জেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠী বাড়ছে-সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে আসামে বদরুদ্দিন ওমরের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফোরামের (এআইইউডিএফ) প্রভাব বাড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত করে জেনারেল বিপিন বলেন, আমাদের পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশটি পরিকল্পিতভাবে এ অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে তারা সবসময়ই একটি ছায়াযুদ্ধের মাধ্যমে এই এলাকার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
‘অঞ্চলটিকে অস্থির করে তুলতে এতে সমর্থন দিচ্ছে আমাদের উত্তরের সীমান্তের দেশটি (চীন)। সামনে আমরা আরও অনুপ্রবেশ দেখতে পাবো বলেন তিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের (চীন) সমর্থন নিয়ে পশ্চিমা প্রতিবেশী এই ছায়াযুদ্ধের খেলাটা ভালোই খেলে এ এলাকাকে অস্থির রাখতে চায় তারা, এভাবে অনুপ্রবেশ ঘটতেই থাকবে এর সমাধান হল-সমস্যা শনাক্ত করা ও সামগ্রিকভাবে তা পর্যবেক্ষণ করা।’
অনুপ্রবেশের আরেকটি কারণ হিসেবে সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে বন্যাসহ বিভিন্ন কারণে জমি কমছে ও সংকুচিত হচ্ছে।
তার বক্তব্যে ১৯৮৪ সালে আসামে ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মাত্র দু’টি আসন পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আসামে এআইইউডিএফ বলে একটা দল আছে— খেয়াল করে দেখুন, বিজেপি বছরের পর বছর যে গতিতে বেড়েছে ওরা (এআইইউডিএফ) আসামে তার চেয়েও দ্রুতগতিতে বেড়েছে।
মুসলিম স্বার্থ রক্ষার দাবিতে ২০০৫ সালে আসামে গঠিত হয় এআইইউডিএফ- দলটি থেকে বর্তমানে তিন জন লোকসভা সদস্য ও ১৩ জন বিধায়ক রয়েছেন।
ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘ওখানকার জনবিন্যাস এখন আর বদল করা সম্ভব বলে মনে করছি না। পাঁচ থেকে বেড়ে আট বা ৯টি জেলায় এমন হলে সরকারে যে-ই থাকুক বিপর্যয় কিন্তু ঘটেছে।’