মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগের সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার জেনেভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাখাইনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশিভাগ এখনও সেখানেই বসবাস করছে— যদি সেখানে গণহত্যাই চালানো হত তবে তারা সবাই পালিয়ে যেত।
তুন বলেন, মিয়ানমার সরকার রাখাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের ফেরত নিতে চায় এবং তাদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সম্মান দেয়া হবে।
সরকার চায় না তারা দেশের বাইরে থাকুক— রাখাইনের ৩০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে খুব কম সংখ্যকই দেশত্যাগ করেছে বলে জানান তিনি।
পালিয়ে যাওয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষই আরাকান রোহিঙ্গা সালভাশন আর্মির (এআরএসএ) ভয়ে দেশত্যাগ করেছে বলেও দাবি করেন এ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ওপর হামলা করতে এআরএসএ গ্রামবাসীদের বাধ্য করতো।
তুন আরো বলেন, জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ খুবই গুরুতর এবং এটা হাল্কাভাবে নেয়া উচিত হবে না। সেখানে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে রায় দেয়ার আগে আমাদের উচিত আসলেই কি হয়েছে সেটা দেখে নেয়া।
যদিও এই দেখে নেওয়ার সুযোগ মিয়ানমার সরকারই দিচ্ছে না— তারা এমনকি জাতিসংঘের তদন্ত দলকেও এখনও রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।
শত বছর ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে বসবাস করলেও বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের বেশিরভাগ মানুষ এখনও তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ শরণার্থী বলে মনে করে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের রোহিঙ্গা নয় বরং ‘বাঙ্গালিস’ বলে বর্ণনা করে।
তুন বলেন, “তাদের মধ্যে যারা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব চাইবে আমরা তাদের খুশি মনে স্বাগত জানাব। কিন্তু তাদের একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তারা এমন এমনিই নাগরিকত্ব পাবে না।”
গতবছর অগাস্টে রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে সেনা অভিযান শুরু হয়।
গত ছয় মাসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
এদিকে, গত বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসাইন বলেন, রাখাইনে সেনাঅভিযান নিয়ে বিশ্বজুড়ে অভিযোগ উঠার পরও মিয়ানমার সেনাবাহিনী তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসি করেছে। আমার দৃঢ় সন্দেহ সেখানে গণহত্যা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে জেইদ বলেন, গণকবর নিশ্চিহ্ন করতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালানোর খবরে মনে হচ্ছে, মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করে বুলডোজার চালিয়েছে।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানে জনশূন্য হয়ে পড়া রোহিঙ্গা গ্রামগুলো বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে।
মিয়ানমার সরকারের দাবি, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালিয়েছে।
বাংলাদেশ বা অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেয়া রাখাইন শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন।
আগামী সোমবার দলটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে চুক্তি নির্ধারিত তারিখে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি।